সরকার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ-সহ মোট চারটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন সচিব নিয়োগ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বদলি ও পদোন্নতির মাধ্যমেই এসব নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জেসমিন নাহারকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। অন্যদিকে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জিয়াউল হককে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে একই বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সাবেক সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে বদলি করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে ছিলেন মো. সাইদুর রহমান খান। তিনি গত ২৯ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ পান। ফলে ওই পদটি খালি হয়। এছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমানকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। তিনি সাবেক শিল্পসচিব ছিলেন। সদ্য বিদায়ী সচিব মো. নজরুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। চাকরির মেয়াদ শেষ করে ৩০ জুলাই নজরুল ইসলাম গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিবের পদ থেকে অবসরোত্তর ছুটিতে যান।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, শিগগিরই আরও কয়েকটি সচিব পদে রদবদলের প্রস্তুতি চলছে। এ মাসে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের পদটি নতুন সরকার আসার পর থেকেই শূন্য রয়েছে। অক্টোবরে অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারেরও অবসরে যাওয়ার কথা।
এসব পদে নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলাকালে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি হতে পারে। ফলে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে নতুন করে পদায়ন ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পর্যায়েও একাধিক রদবদল হতে পারে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সচিব পর্যায়ের নিয়োগগুলো সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তেই হয়। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত এলেই কেবল তাঁরা আদেশ জারি করেন। তাই কারা কী হচ্ছেন, সেটা আগে থেকে বলা কঠিন। তবে বড় পরিবর্তন আসছে প্রশাসনের শীর্ষ পদে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।




