প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ২০১৩ সালে এক সমাবেশে যোগ দিতে না দিতে তাঁর গুলশানের বাসভবনের সামনে বালুভর্তি ট্রাক দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও নিষিদ্ধ পেপার স্প্রে ছিটিয়ে হত্যাচেষ্টা চালানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই রায় দেন। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী শুনানি শেষে রিমান্ডের তথ্য সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।
এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন বুধবার ডিবির গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে সহায়তা পাওয়া যাবে। সেদিন আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠাতে বললে রিমান্ডের শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ঠিক করা হয়।
আজ বেলা ১টা ৪০ মিনিটে জগলুল পাশাকে আদালতের হাজতখানা থেকে পুলিশের পাহারায় কাঠগড়ায় তোলা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি তখন আদালতকে বলেন, তিন দফার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তার বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রাখার পরিকল্পনার অন্যতম হোতা এই জগলুল পাশা। তার নির্দেশনায়ই বাসার সামনে বালুর ট্রাক রাখা হয় এবং বিষাক্ত রাসায়নিক পেপার স্প্রে ছিটানো হয়। তিনি পদবীর অপব্যবহার করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে সহযোগিতার মাধ্যমে নিজের সুবিধা আদায় করেছেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন আবেদন জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের মামলার ঘটনার সময় জগলুল পাশা যুগ্ম সচিব ছিলেন বলে ছাত্রজীবন থেকে কর্মজীবন এবং পরবর্তী অবসরকালে কখনও রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন না। তার কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই এবং অভিযোগের ঘটনাস্থলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত বেলা ১টা ৫৩ মিনিটে জগলুল পাশাকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আবেদন মঞ্জুর করে। শুনানি চলার পুরো সময়টিতে আসামি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মিষ্টি হাসছিলেন এবং পুলিশি প্রহরায় হাজতে ফেরার সময়ও তাকে একই ভঙ্গিতে হাসতে দেখা গেছে। হাসির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
মামলার তদন্তকাজে নিযুক্ত ডিবির উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন গুলশান থানায় এ মামলাটি করলে ১১১ জনকে আসামি করা হয়। গ্রেপ্তার জগলুল পাশা ওই মামলার ১৭ নম্বর অভিযুক্ত এবং এখন পর্যন্ত চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর সকাল থেকে সারাদিন ধরে ১১১ জন আসামি ও অজ্ঞাত ২৫০-৩০০ লোক মারাত্মক অস্ত্রবস্ত্র নিয়ে খালেদা জিয়ার গুলশানের বাড়ির সামনে রাস্তা বন্ধ করে অবস্থান করে এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ধরে। পরের দিন ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় খালেদা জিয়া ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য সফরসঙ্গীদের সাথে প্রস্তুত হলে আসামিরা তার গাড়িবহরে বাধা দেয় এবং তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ পেপার স্প্রের ব্যবহার করে। যার ফলে খালেদা জিয়া ও তাঁর সংগের নেতা-কর্মীরা আহত হন।



