রাজধানীর মিরপুরে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য কিনতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেয়াল ধসের ঘটনায় তৃতীয় প্রাণহানি ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিউটি বেগম (৫০) নামের ওই নারী মারা যান। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, বিউটি বেগম ঘটনাস্থলের পাশেই ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায়। তিনি সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। এর আগে বেলা দেড়টার দিকে মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পেছনের দেয়ালটি হঠাৎ ধসে পড়ে। সেই সময় অন্যান্য দিনের মতো সেখানে অনেক মানুষ টিসিবির পণ্য সংগ্রহ করতে সারিবদ্ধ ছিলেন। দেয়াল ধসে বিউটি বেগম গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় মৃত অপর দুজন হলেন নাসিমা বেগম (৪৪) ও মো. ফিরোজ (৪৩)। নাসিমা বেগম মিরপুরের ইউসেপ টেকনিক্যাল স্কুলে পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেন এবং ফিরোজ শাহ আলীবাগ এলাকায় থাকতেন। ঘটনাস্থল এখন নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে রেখেছে পুলিশ।
মিরপুর থানা–পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কলেজের পেছনের ওই দেয়াল ঘেঁষে প্রতিদিনই ট্রাকে করে টিসিবির পণ্য বিক্রি হয়। কিছুটা কম দামে নিত্যপণ্য সংগ্রহ করতে নিম্ন আয়ের মানুষেরা সেখানে ভিড় করেন। মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ দেয়ালটি সারিতে দাঁড়ানো মানুষের ওপর ধসে পড়লে কয়েকজন দেয়ালচাপা পড়েন। দুইজনের মুখ ও পা থেঁতলে যায়। উপস্থিত লোকজন ভাঙা দেয়াল সরিয়ে আহতদের উদ্ধার করে এবং রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়।
ঢাকা মেডিকেল সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় আহত তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁরা হলেন রাজিয়া বেগম (৫৫), মনোয়ারা বেগম (৩৭) ও মোশাররফ হোসেন (১৯)। রাজিয়া বেগমের ডান পায়ে, মনোয়ারা বেগমের হাতে ও বুকে এবং মোশাররফ হোসেনের পায়ে আঘাত লেগেছে। রাজিয়া বেগমের মেয়ে মাহফুজা আক্তার জানান, তাঁর মা সকালে মিরপুর ৬ নম্বর এলাকার বাজারে যাবেন বলে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। পথে টিসিবির গাড়ি দেখে সেখানে গেলে দেয়াল ধসে আহত হন।
সংসারে সাশ্রয়ের চেষ্টা শেষ হলো দেয়ালধসে মৃত্যুতে—এমন করুণ পরিণতি ঘটেছে তিনজনের। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ঘটনাস্থল সংরক্ষণ করে তদন্ত শুরু করেছে।




