নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ তার পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে সরে এসে চলতি সপ্তাহে ভারত ও চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন। সরকারের প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী এবং কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং মাওমিংয়ের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে এই দুই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নেপালের পররাষ্ট্রনীতিতে উভয় প্রতিবেশীর সমান গুরুত্ব তুলে ধরার ইঙ্গিত বহন করে।
ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম দিকে নেপাল সফরে আসা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে রাজি হননি শাহ। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমীর পল কাপুর এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। এছাড়া নেপাল সফরের সময় মার্কিন জনকূটনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট সারাহ বি রজার্সও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাননি। এর আগে তিনি বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে যৌথ বৈঠক করতেন, যেমন ৯ এপ্রিল ও ২৬ মে কাঠমান্ডুতে দায়িত্বরত রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে একসঙ্গে বৈঠক করেন। এই পদক্ষেপ কূটনৈতিক মহলে স্বচ্ছ ও সমতাভিত্তিক পদ্ধতি হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল।
শুধু বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গেই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ অংশীজনদের সঙ্গেও আগে বৈঠক এড়িয়ে চলতেন শাহ। সম্প্রতি তিনি ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, শিল্পপতি এবং রপ্তানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এক সহকারী জানান, দুই সপ্তাহ ধরে তিনি বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং এখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সঙ্গেও আলোচনা করা উচিত। নেপালের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার বিবেচনায় দুই প্রতিবেশী দিয়েই এই প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।
একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে ৬ জুলাই থেকে নেপালে তিন দিনের সফরে আসা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন শাহ। অতীতে দেখা গেছে, নেপালের নতুন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীরা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এককভাবে সাক্ষাৎ করতেন, যা শাহের পূর্ববর্তী অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। চলতি সপ্তাহের বৈঠকের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা না হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তা শিগগিরই নির্ধারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




