ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে সোমবার বিকেলে তাঁর সরকারি বাসভবন ৭ লোক কল্যাণ মার্গের সামনে হঠাৎ করেই অবস্থান নেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের দমনপীড়নের প্রতিবাদে এই ধরনার আয়োজন করা হয়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদেরা, কে সি বেনুগোপাল, কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন এবং কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দলে দলে কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা সেখানে জড়ো হতে থাকেন। তাঁরা শুধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই নয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগেরও দাবি জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব ঘটনাস্থলে আসেন। রাহুল গান্ধীর সাথে কিছু সময় কথা বলার পর তাঁরা চলে যান।
এ ব্যাপারে কংগ্রেস সংসদ সদস্য সৈয়দ নাসির হুসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সরে যেতে বলা হলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, আরও নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ধরনায় যোগ দিচ্ছেন।
রাহুল গান্ধী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানান, তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হাজির হয়েছেন গতকাল শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের জবাব চাইতে। তিনি লেখেন, এই সরকার কোনো জবাবদিহি নিতে চায় না এবং সংসদেও বিতর্কে অংশ নিতে রাজি নয়। দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে দিল্লি পুলিশ লোক কল্যাণ মার্গে পৌঁছে যায় এবং বিপুল সংখ্যক গাড়ি নিয়ে হাজির হয়। পুলিশের শীর্ষ কর্তারা রাহুল গান্ধীসহ অন্যান্য নেতাদের সাথে আলোচনা করেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতারা অভিযোগ তোলেন যে এই ধরনার কারণে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছে। তবে কংগ্রেস নেতারা এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে বলেন, তাঁদের এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবনে গিয়ে অল্প সময় পরই চলে আসেন এবং সেখানে বিতর্কে অংশ নেন না—এমন মন্তব্য করে কংগ্রেস নেতা মনিক্কম টেগোর প্রশ্ন তোলেন, তাহলে তাদের আর কোথায় যাওয়ার পথ আছে? এদিকে, কংগ্রেস সংসদ সদস্যরা জানান, লোকসভা স্পিকারের কাছে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। কোনো প্রতিশ্রুতি না পাওয়ায় তিনি এ পদক্ষেপ নেন এবং দলীয় সাংসদদের বলেন, ‘চলুন, প্রধানমন্ত্রীর ঘুম ভাঙাই।’
সরকারি সূত্রের বরাতে জানা যায়, মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং কংগ্রেস নেতাদের জানিয়েছেন যে সরকার বুধবার এই ইস্যুতে আলোচনায় প্রস্তুত। কিন্তু কংগ্রেস নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছেন। সন্ধ্যা সাতটা পেরিয়ে গেলেও তাদের ধরনা অব্যাহত ছিল। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকরাও সেখানে যোগ দেন। এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলেকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাশে দাঁড়িয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়। বিশিষ্ট আন্দোলনকর্মী যোগেন্দ্র যাদবও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সোমবার অনলাইনভিত্তিক যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ডাকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভে নামেন। যন্তর মন্তর ও তার আশপাশে জড়ো হওয়া এই জনস্রোত ব্যারিকেড ও তিন হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সংসদ ভবনের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়। পুলিশ তাদের কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ এক নারী বিক্ষোভকারীকেও আটক করে বলে জানা গেছে। বিক্ষোভটি নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আয়োজিত হয়।




