এক দশক আগে স্টিচ ফিক্স ছিল প্রযুক্তি খাতের উজ্জ্বল নক্ষত্র, যা অ্যালগরিদম ও ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রাহকের পছন্দ বুঝে পোশাক সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তাদের ব্যক্তিগত শপিং সাবস্ক্রিপশন সেবা ‘ফিক্স’ গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত পোশাক পাঠাত, যা অধিকাংশই ক্রয় করতেন। কিন্তু প্রযুক্তির জাদুতে তৈরি এই মডেল দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয়নি, কারণ মৌলিক বাণিজ্যিক দক্ষতার অভাব প্রকট হয়ে ওঠে। করোনা মহামারির সময়ে বাড়িতে থেকে কেনাকাটার প্রবণতা বাড়ায় প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তিনগুণ বেড়ে ২.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায় এবং বাজার মূলধন ১১ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড স্পর্শ করে। তবে মহামারি পরবর্তী সময়ে গ্রাহকরা দ্রুত সরে যেতে শুরু করেন। তাদের মতে, পণ্যের বৈচিত্র্য ছিল একঘেয়ে এবং ওয়েবসাইট আধুনিকায়নে পিছিয়ে ছিল। বড় খুচরা বিক্রেতা ওয়ালমার্ট ও টার্গেটের মতো প্রতিষ্ঠানের উন্নত পোশাক অফার, নতুন প্রতিযোগী সাবস্ক্রিপশন সেবা এবং ক্রেতাদের ফিজিক্যাল স্টোরে ফিরে যাওয়ার প্রবণতা মিলিয়ে স্টিচ ফিক্সের গ্রাহক সংখ্যা ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৪০% কমে ১.২৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ২০২৩ সালে ম্যাট বেয়ারকে সিইও হিসেবে নিযুক্ত করা হয়, যিনি আগে ওয়ালমার্ট ও মেসি’তে ই-কমার্স বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। তার পরিকল্পনা ছিল প্রযুক্তির উদ্ভাবনী শক্তিকে খুচরা বাণিজ্যের সেরা চর্চার সঙ্গে যুক্ত করা। বেয়ার বলেছেন, ‘রূপান্তরের জন্য সময় লাগে এবং আমরা এই প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট ধৈর্য ধরেছি, কারণ লক্ষ্য হলো টেকসই মুনাফা অর্জন।’ তিনি ক্লাসিক খুচরা কৌশল গ্রহণ করেছেন—প্রাইভেট লেবেল শক্তিশালী করা। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্র্যান্ড এখন মোট বিক্রির প্রায় ৪০% দখলে রেখেছে, যা অধিক মুনাফা এনে দিচ্ছে। পাশাপাশি পোশাকের পাশাপাশি নতুন বিভাগ যেমন অ্যাকটিভওয়্যার, জুতা, ব্যাগ ও চশমায় সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বেয়ারের মতে, এসব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি আগে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের বাজার সম্ভাবনা হাতছাড়া করছিল। গ্রাহকদের আরও নমনীয়তা দেওয়া হয়েছে—তারা নিজেরা আইটেম বেছে নিতে পারেন এবং ডেলিভারির সময় নির্ধারণ করতে পারেন। প্রযুক্তি আপডেটের অংশ হিসেবে এআই সমর্থিত ফিচার চালু করা হয়েছে, যাতে গ্রাহক নিজের ছবির ওপর পোশাকটি এঁকে দেখতে পারেন। এছাড়া এআই ট্রেন্ড শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা প্রাইভেট লেবেলের ডিজাইন সময় মাস থেকে কমিয়ে সপ্তাহে এনেছে। সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিকে স্টিচ ফিক্স টানা পঞ্চমবারের মতো বছরের তুলনায় রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে ৪.৭%। সক্রিয় গ্রাহকপ্রতি গড় রাজস্ব ৫৭৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা নির্দেশ করে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি ব্যবসা পাচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এবং শেষ ত্রৈমাসিকে তা ২৩ লাখ ৯০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এই অগ্রগতি সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির বাজার মূলধন এখন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার, যা পাঁচ বছর আগের শীর্ষ অবস্থানের মাত্র ৫%। বেয়ার অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। তার মতে, রূপান্তরের মূলে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির আসল শক্তিকে চিহ্নিত করা এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই সম্ভাবনাকে আরও কাজে লাগানো। স্টিচ ফিক্সের মূল লক্ষ্য ছিল আমেরিকানদের কেনাকাটার ক্লান্তি দূর করা—এখনও এই সমস্যা বিদ্যমান। বেয়ার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ৯০% মানুষ স্টোরে পোশাক কেনাকাটায় আগ্রহী নন, তাই স্টাইল ও ট্রেন্ড বুঝতে সাহায্যের প্রয়োজন অনেকেরই।
প্রযুক্তির দৌড়ে পিছিয়ে পড়া স্টিচ ফিক্সকে খুচরা বাণিজ্যের মূলসূত্রে ফিরিয়ে আনছেন সিইও
প্রতিষ্ঠানটির সিইও ম্যাট বেয়ার ওয়ালমার্ট ও মেসি’র অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তি নির্ভর পোশাক সাবস্ক্রিপশন সেবাটিকে লাভজনক খুচরা ব্যবসায় রূপ দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিকে গ্রাহক সংখ্যা ও রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।




