বাংলাদেশের খোলাবাজারে তথা মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভারতীয় মুদ্রা রুপির চাহিদা সর্বোচ্চ। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় ও মুনাফার সিংহভাগই আসে মার্কিন ডলার লেনদেন থেকে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিচালিত সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। সমীক্ষাটি ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় এবং এতে দেশের ২৬৮টি মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৬টির তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের তিনটি খাত রয়েছে: মুদ্রা বিনিময়, পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট ও অন্যান্য সেবা। এর মধ্যে মুদ্রা বিনিময় থেকেই আসে মোট আয়ের ৮৯ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ডলার লেনদেনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো ৮ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করে। অন্যদিকে, ভারতীয় রুপি লেনদেন থেকে আয় হয়েছে মাত্র ২৯ লাখ টাকা। ইউরো লেনদেন থেকেও ১ কোটি টাকা মুনাফা এসেছে। তাই আয়ের দিক থেকে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা অনেক বেশি।
সংখ্যার বিচারে অবশ্য ভারতীয় রুপির লেনদেন সবচেয়ে বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মানি চেঞ্জারগুলো মোট ৭ কোটি ৭০ লাখ ভারতীয় রুপি লেনদেন করেছে, যেখানে ডলার লেনদেন হয়েছে ৩ কোটি ৬৭ লাখ। অর্থাৎ ডলারের তুলনায় রুপির লেনদেন প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু মূল্যের দিক থেকে ডলার অনেক এগিয়ে। সে সময় ১ ডলার কিনতে খরচ হতো ১১০ থেকে ১২৩ টাকা, আর ১ ভারতীয় রুপি পাওয়া যেত ১ টাকা ৩৩ পয়সা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সায়। ফলে টাকার বিপরীতে ১ ডলারের মান ১ রুপির চেয়ে প্রায় ৮৫ গুণ বেশি ছিল।
বিবিএসের সমীক্ষা বলছে, খোলাবাজারে মোট ২৪ ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন হয়। ভারতীয় রুপির পরেই অবস্থান করছে সৌদি আরবের রিয়াল। এরপর রয়েছে ইউরো, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, থাই বাথ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, কাতারের রিয়াল, সিঙ্গাপুরের ডলার ও কানাডীয় ডলার। তবে মূল্যমানের বিচারে ডলারের পরেই রয়েছে ইউরো। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭৬ কোটি টাকার ইউরো বিক্রি করেছে মানি এক্সচেঞ্জগুলো। এরপর সৌদি রিয়াল, ভারতীয় রুপি, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ও সিঙ্গাপুরি ডলার।
ভারতীয় রুপির চাহিদা বেশি হওয়ার পেছনে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে চিকিৎসা, শিক্ষা, পর্যটন ও সীমান্ত বাণিজ্যের কারণে বিপুল সংখ্যক ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীকে রুপি লেনদেন করতে হয়। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এ কারণেই ভারতীয় মুদ্রার চাহিদা এত বেশি। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এখনো মার্কিন ডলারের ব্যবহারই বেশি। মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও গ্রাহকেরা মার্কিন ডলার লেনদেন করেন বেশি।
সমীক্ষা অনুযায়ী, ৯৬টি প্রতিষ্ঠানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় সাড়ে ৪০০ কর্মী কাজ করেছেন। বছরের বিভিন্ন সময়ে অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ওঠানামা করে। চতুর্থ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) সবচেয়ে বেশি কর্মী ছিল। বিবিএস জানায়, হজ, ওমরাহ ও গ্রীষ্মকালীন বিদেশ ভ্রমণের সময় গ্রাহক চাপ বাড়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত খণ্ডকালীন কর্মী নিয়োগ দেয়।
এই খাতের মালিকানা কাঠামোতেও বৈচিত্র্য দেখা গেছে। সমীক্ষাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬৫টি একক মালিকানাধীন, ১৪টি যৌথ মালিকানাধীন এবং ১৬টি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। অর্থাৎ দেশের খুচরা বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বাজারের অধিকাংশই ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের হাতে।




