রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে বেশিরভাগ দোকানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিছু দোকানে ১৯০ টাকায় পাওয়া গেলেও তা ব্যতিক্রম। দুই সপ্তাহ আগে যা ছিল ১৭০-১৮০ টাকা। সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৪০-৩৫০ টাকা ও হাইব্রিড সোনালি ৩০০-৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদুল আজহার সময় ব্রয়লার মুরগি দেড়শ টাকায় পাওয়া যেত। এখন অনেক বেড়েছে।
মাছের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। এক থেকে দেড় কেজি ওজনের রুই মাছ ৩৫০ টাকার নিচে নেই, অথচ গত মাসে ছিল ৩০০ টাকা। দুই কেজি বা তার বেশি ওজনের রুইয়ের দাম ৪০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত। তেলাপিয়া, পাঙাশ ও কই মাছের কেজিও আগের চেয়ে ২০-৩০ টাকা বেশি। চিংড়ি ৮০০-১ হাজার টাকা, পাবদা ৪০০-৫০০ টাকা ও শিং মাছ ৪০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রায় গত দুই মাসে খামারগুলোর অনেক মুরগি মারা গেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতির কারণে খামারিরা নতুন মুরগি তুলতে পারছেন না। এর ফলে বাজারে সরবরাহ কম এবং দাম বেশি। টানা বৃষ্টি সবজির সরবরাহও কমিয়ে দিয়েছে, যা মাছ-মাংসের চাহিদা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ডিমের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ফার্মের বাদামি ডিম প্রতি ডজন ১৩০ টাকা, ছোট সাদা ডিম ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাধারণত মাছ-মুরগির দাম বাড়লে ডিমের চাহিদা বেড়ে যায়, যা দামকে আরও উঁচুতে ঠেলে দেয়।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ২ টাকা বেড়ে ১৮৮-১৯৫ টাকা হয়েছে। দেশি পেঁয়াজের দাম ৫ টাকা বেড়ে ৪০-৪৫ টাকা, শসার দাম ১০ টাকা বেড়ে ৬০-৮০ টাকা কেজি। অন্যদিকে, সরু ও মোটা চালের দাম কেজিতে ২ টাকা কমেছে। খোলা আটা, আমদানি করা রসুন ও বেগুনের দামও হ্রাস পেয়েছে। বেগুন কেজিতে ২০ টাকা কমে ৬০-৮০ টাকা হয়েছে।
শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা রেহানা আক্তার বলেন, 'ঈদের সময় ব্রয়লার মুরগি দেড়শ টাকায় কিনেছিলাম। দাম বেড়ে যাওয়ার পর তা আর আগের জায়গায় ফিরে আসেনি। প্রয়োজনীয় মাছের দামও আমাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।'




