মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম অংশ নিতে পারেননি। সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্যকে বৈঠকে আমন্ত্রণই পাঠানো হয়নি বলে সংসদীয় সূত্রে জানা গেছে। সংসদের ওয়েবসাইটে কমিটির সদস্যদের তালিকায় তাঁর নাম থাকলেও তাঁকে বৈঠকে ডাকা হয়নি।

কমিটির সভাপতি ও বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, জামায়াত কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে ওই সদস্য আর তাদের দলে নেই। যেহেতু জামায়াত চায়নি, তাই স্পিকারের অনুমতি নিয়ে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। প্রসঙ্গত, গত ২২ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। পরদিন দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিষয়টি অবহিত করে। সেই চিঠিতে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত এই সাংসদের আসনটি শূন্য হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, দল থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে কি না, সে বিষয়ে বিতর্ক দেখা দিলে তা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে এবং কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। তবে জামায়াতের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। সংসদের কোনো অধিবেশনও এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি।

এদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকায় গাজী নজরুল ইসলামের নাম রয়েছে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশন না থাকলেও বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম চলছে। বিরোধীদলীয় হুইপ ও জামায়াতের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের কথা তাঁরা আগেই স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে স্পিকার বা ইসির পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত তাঁদের জানানো হয়নি। সংসদীয় কমিটি থেকে গাজী নজরুলকে বাদ দিতে কোনো চিঠি দেওয়া হয়েছে কি না, সে ব্যাপারেও তাঁর জানা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।