আজ মঙ্গলবার সকালে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে সদ্য অন্তর্ভুক্ত চার নেতা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে উপস্থিত হয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তাঁদের এই শ্রদ্ধাঞ্জলির মাধ্যমে দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করা হয়।

বিকেল পাঁচটার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ওই চার নেতা সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহ। এ সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও সেখানে উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন বলে জানা যায়।

সাক্ষাৎ-পরবর্তী বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী প্রথম আলোকে জানান যে, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মঞ্চে চেয়ারম্যান যে চিন্তাভাবনার ভিত্তিতে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, সে দায়িত্ব সর্বাত্মকভাবে পালনের চেষ্টা করবেন তাঁরা। চেয়ারম্যানের সঙ্গে এই সৌজন্য বিনিময়ের অংশ হিসেবে সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। দলের কল্যাণে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

গত ১৫ আগস্ট বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই চার নেতাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেন। দলীয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং দলীয় সিদ্ধান্তের আলোকে তাঁদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তাঁদের মেধা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে সুচিন্তিত পরামর্শ দিয়ে দল ও জনগণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। ওই কাউন্সিলের পর স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে সদস্যদের মৃত্যু, পদত্যাগসহ বিভিন্ন কারণে কমিটির পদ শূন্য হতে থাকলে বিভিন্ন সময়ে নতুন সদস্য যুক্ত করা হয়। তবে এবারই প্রথম একসঙ্গে চারজনকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলো। উনিশ সদস্যবিশিষ্ট এই ফোরামে নতুন চারজন যোগ হওয়ার আগে সদস্যসংখ্যা ছিল তেরো জন।

বর্তমানে স্থায়ী কমিটিতে রয়েছেন তারেক রহমান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নের পর তিনি মহাসচিবসহ সকল দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন, ফলে আরও একটি আসন শূন্য হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় নন বলে জানা গেছে।

এই অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে দলের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় আরও গতিশীলতা আনার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করে নবনিযুক্ত সদস্যরা দলীয় দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন। তাঁদের মেধা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিএনপি ভবিষ্যতে সুচিন্তিত পদক্ষেপ গ্রহণে সক্ষম হবে বলে আশা করছে দলটি।