গগনে গর্জে ওঠে বৃষ্টি। ফার্মগেটে রাইড ডাকলেও ভরসা নেই। ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে মাথায় হেলমেট পরে, বাইক ডেকে এক ব্যক্তি বের হন। বস্তায় কাঁঠাল নিয়ে একেলা পথ চলছিলেন তিনি। চারপাশে টেসলা গাড়ি ঠেলাঠেলি করছে। ফোক স্টুডিও গেয়ে চলেছে, কিছু গঞ্জিকা খেয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে এগিয়ে চলেছেন তিনি। মেট্রোর ছাদের নিচে মাথা বাঁচানোর চেষ্টা। কাঁঠালটি ছিল কাঁচা, তাই দ্রুত লিফটে উঠে মেট্রোর টিকিট কিনতে চান। ভাবছেন মেট্রোতেই চলে যাবেন শেওড়াপাড়ায়। তোপখানা স্টেশনে মেট্রোর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছেন ভিড়ে, বস্তা কাঁধে। বাইরে পড়ছে বাজ, বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে সাজ। মেট্রো স্টেশনে দেখতে পান তার প্রাক্তনকে, যিনি লেডিস কামরার কাছে দাঁড়িয়ে। তাকে দেখে মনে পড়ে যায় পুরনো স্মৃতি। ভিড়ের মধ্যে ট্রেন এলে দরজায় বস্তা চাপিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু নামার যাত্রীর ধাক্কায় তিনি উঠতে পারেননি। প্রাক্তন একটু হেসে বলেন, 'ওগো, তুমি কোথা যাও? উত্তরা কীভাবে চলেছ আমাকে ছাড়া? কাঁঠালটা তুলে নাও।' তারপর কাঁঠালখানা বুকে নিয়ে ট্রেন চলে যায়। শ্রাবণগগন ঘিরে ঘন মেঘ, শূন্য লাইনের ধারে একা রয়ে যান তিনি। যা ছিল, তা নিয়ে গেল সোনার ট্রেন। তাই এখন তিনি ইউটিউবে র্যাপ গেয়ে বেড়ান, কাঁঠালের গন্ধ নাকে আসে, কিন্তু সমস্যার তরি নয়— কাঁঠালের ট্রেন চলে গেছে।
কাঁঠালের ট্রেন: বৃষ্টি-ভেজা এক স্মৃতিকথা
ফার্মগেট থেকে মেট্রোর যাত্রায় এক ব্যক্তির কাঁঠাল নিয়ে ভিড়ের মধ্যে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা ও প্রাক্তনের সাথে দেখা হওয়ার ঘটনা নিয়ে একটি আবেগময় কবিতার আকারে বর্ণনা।




