যেকোনো বয়সেই ব্রণ দেখা দিতে পারে। ব্রণ সেরে যাওয়ার পরও অনেকের মুখে কালো দাগ, লালচে ছাপ বা ছোট-বড় গর্ত থেকে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ব্রণের এই গর্তকে বলা হয় 'একনি স্কার'। ব্রণের দাগ নিয়ে হতাশ না হয়ে বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা।
ব্রণের দাগ সাধারণত কয়েকটি ভিন্ন আকারে দেখা যায়। আইস পিক স্কার সবচেয়ে গভীর ও সরু, যা সুচের খোঁচার মতো দেখতে। বক্স স্কার গোলাকার বা চৌকো আকৃতির হয়, আর রোলিং স্কার ত্বককে ঢেউখেলানো বা অসমান করে তোলে। হাইপারট্রফিক বা কিলোয়েড স্কার ক্ষেত্রে দাগ উঁচু হয়ে ওঠে, যা মুখের তুলনায় বুকে, কাঁধে ও পিঠে বেশি দেখা যায়।
অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা বা অন্যদের পরামর্শে মাসের পর মাস বিভিন্ন সিরাম, ক্রিম বা ফেসিয়াল করাতে থাকেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এতে সময় ও অর্থ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ত্বকের সংবেদনশীলতা ও কালো দাগ আরও বেড়ে যেতে পারে। বাস্তবে ব্রণের গর্ত শুধু সিরাম, ক্রিম বা ফেসিয়াল দিয়ে দূর করা সম্ভব নয়, কারণ এগুলো ত্বকের গভীরে কোলাজেনের ক্ষতির ফলে তৈরি হয়।
বর্তমানে দেশে ব্রণের দাগের জন্য বেশ কিছু আধুনিক ও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রাকশনাল কার্বন ডাই–অক্সাইড লেজার, মাইক্রোনিডলিং আরএফ, ডারমাপেন মাইক্রোনিডলিং, সাবসিশন, টিসিএ ক্রস ও কেমিক্যাল পিলিং। রোলিং স্কারের জন্য সাবসিশন খুব কার্যকর হতে পারে, বক্সকার স্কারের জন্য ভালো ফল দেয় কার্বন ডাই–অক্সাইড লেজার বা মাইক্রোনিডলিং আরএফ, আর আইস পিক স্কারের জন্য টিসিএ ক্রস ব্যবহার করা হয়। অনেক রোগীর মুখে একাধিক ধরনের স্কার একসঙ্গে থাকে বলে ভালো ফল পেতে প্রায়ই সমন্বিত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
মনে রাখতে হবে, কোনো চিকিৎসাই এক দিনে সব গর্ত দূর করতে পারে না। সাধারণত একাধিক সেশন প্রয়োজন হয় এবং রোগীভেদে ফলাফল ভিন্ন হতে পারে। চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনযাত্রার পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ব্রণ হওয়া নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং ত্বকের উপযোগী স্কিনকেয়ার রুটিন অনুসরণ করা প্রয়োজন।
ডা. সিনথিয়া আলম, চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ, কন্টিনেন্টাল হাসপাতাল, গুলশান-২, ঢাকা-এর পরামর্শ অনুযায়ী, ব্রণের দাগের চিকিৎসায় ধৈর্য ধরা এবং বিশেষজ্ঞের নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।




