দেশের প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় পর্যায়ে এটিকে সত্যিকার অর্থে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। প্রাথমিক স্তরকে শিক্ষার ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, শিক্ষাজীবনের পরবর্তী সাফল্য এই স্তরের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখনদক্ষতার ঘাটতি অত্যন্ত দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পড়া, লেখা ও গণনার মৌলিক দক্ষতা যদি শুরুতেই দুর্বল থাকে, তাহলে তা উচ্চতর শ্রেণিতে গিয়ে আরও প্রকট আকার ধারণ করে। তিনি উল্লেখ করেন, শহর ও গ্রামের মধ্যে শিখনদক্ষতার বৈষম্য সুস্পষ্ট, যা সময়ের সঙ্গে আরও বাড়তে পারে এবং শিক্ষার অসমতা আরও গভীর করবে। করোনাকালে সৃষ্ট শিখনঘাটতির প্রভাবও এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।
শুধু বিদ্যালয়ের দুর্বলতা নয়, এই সমস্যার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে বলে মত দেন রাশেদা কে চৌধুরী। শিক্ষকসংকট, যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব, দুর্বল পরিবীক্ষণ, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও পারিবারিক-সামাজিক বাস্তবতাকে তিনি এর জন্য দায়ী করেন। এসব কারণ মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে শিক্ষকদের ওপর। যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিদের শিক্ষক পেশায় আকৃষ্ট করার পাশাপাশি দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
নিয়োগের পর একবার দেওয়া প্রশিক্ষণ যথেষ্ট নয়। ধারাবাহিক পেশাগত প্রশিক্ষণ ও বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা থাকা জরুরি, যাতে শিক্ষকেরা ক্লাসে শিশুদের চাহিদা বুঝে পাঠদান করতে পারেন। এসবের পাশাপাশি প্রতিটি শ্রেণির শিখনঘাটতি চিহ্নিত করে পুনরুদ্ধার কর্মসূচি চালু, কার্যকর মনিটরিং ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতের ওপর জোর দেন তিনি।
শিশুদের জন্য উপবৃত্তির পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যান্য সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিও শক্তিশালী করতে হবে বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, দক্ষ শিক্ষক ও কার্যকর বাস্তবায়ন—এই তিন বিষয় নিশ্চিত করার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন তিনি।


