ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে নজিরবিহীন এক রায় দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট অব স্পোর্টস জাস্টিস (এসটিজেডি)। মঙ্গলবারের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইন্টারন্যাসিওনালের ডিফেন্ডার ভিক্টর গ্যাব্রিয়েলকে ততক্ষণ পর্যন্ত মাঠে নামতে দেওয়া হবে না, যতক্ষণ না ক্রুজেইরোর ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল পেক চিকিৎসকের কাছ থেকে খেলার অনুমতি না পান। তবে এই নিষেধাজ্ঞা সর্বোচ্চ ১৮০ দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত ২২ জুলাই ব্রাজিলিয়ান সিরি ‘এ’ লিগের ম্যাচে। ক্রুজেইরো-ইন্টারন্যাসিওনালের ওই লড়াইয়ে ২-১ গোলে জয় পায় ক্রুজেইরো। কিন্তু ম্যাচের এক ভয়াবহ মুহূর্তে ভিক্টর গ্যাব্রিয়েলের কড়া ট্যাকলে বাঁ পায়ের শিনবোন (টিবিয়া) ভেঙে যায় পেকের। ট্যাকলের তীব্রতায় পেক শূন্যে ছিটকে ডিগবাজি খেয়ে মাটিতে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গেই রেফারি লাল কার্ড দেখিয়ে ভিক্টর গ্যাব্রিয়েলকে মাঠ থেকে বের করে দেন। দ্রুত অস্ত্রোপচার করতে হয় পেককে। চিকিৎসকদের মতে, মাঠে ফিরতে তাঁর তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে।
এই ঘটনায় ব্রাজিলিয়ান কোড অব স্পোর্টস জাস্টিসের ২৫৪ নম্বর ধারায় অভিযুক্ত হন ভিক্টর গ্যাব্রিয়েল। সাধারণত ‘সহিংস খেলার’ জন্য এই ধারায় এক থেকে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে প্রসিকিউশন একই ধারার ৩ নম্বর উপধারা প্রযোজ্য করার আবেদন জানায়। ওই উপধারায় গুরুতর চোটের ঘটনায় আহত খেলোয়াড়ের খেলায় ফেরা পর্যন্ত অপরাধী খেলোয়াড়ের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার বিধান রয়েছে, যার সর্বোচ্চ মেয়াদ ১৮০ দিন।
ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) সদর দপ্তর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেন অভিযুক্ত ভিক্টর গ্যাব্রিয়েল। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি দাবি করেন, পেককে আঘাত করার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না। ‘তাঁর জন্য প্রার্থনা করতে করতে আমার অনেক রাত নির্ঘুম কেটেছে। ক্রুজেইরোর সবার কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি,’ বলেন তিনি। নিজের ট্যাকলের ব্যাখ্যায় ভিক্টর গ্যাব্রিয়েল জানান, ‘আমার মনে হয়েছিল আমি আগে বলে পৌঁছাতে পারব, সেটা করেছিও। কিন্তু মাঠ খুব ভেজা ও পিচ্ছিল থাকায় বলে লাগার পর পা সরিয়ে নেওয়ার সময় পাইনি। তাই ট্যাকলটা একটু বেশি জোরে হয়ে গেছে। তবে সহকর্মী একজন ফুটবলারকে আঘাত করার কোনো ইচ্ছা বা বিদ্বেষ আমার ছিল না।’
মামলার র্যাপোর্টেয়ার অডিটর রদ্রিগো স্টাইনমান বায়ার সর্বোচ্চ ছয় ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দেন। কিন্তু অন্য তিন অডিটর—জর্জ অক্টাভিও লাভোকাত গালভাঁও, এদুয়ার্দো জিবলে সালেস রামোস ও আলিনে গনসালভেস জাতাহি—ভিন্নমত পোষণ করেন। তারা আহত পেকের সুস্থ হওয়ার সময় পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পক্ষে রায় দেন। সেই মতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
উল্লেখ্য, ২৫ বছর বয়সী পেক চলতি বছর বিশ্বকাপের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব এলএ গ্যালাক্সি থেকে ক্রুজেইরোতে যোগ দেন। অভিষেক ম্যাচেই গুরুতর চোটে পড়ায় বড় ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিলের ক্লাবটি।




