মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের আকস্মিক পরিদর্শনকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালে দালাল সন্দেহে বিএনপির এক কর্মীকে মারধরের ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে সংসদ সদস্য পাশের ওজোপাডিকো কার্যালয়ে গেলে বিএনপির কর্মীরা সেটি ঘিরে ফেলে এবং স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নানা অনিয়ম, চিকিৎসক সংকট এবং দালালদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সকালে হাসপাতালে যান এমপি তাজউদ্দীন খান। এসময় সেখানে বিএনপির কর্মী রাকিবুল ইসলামকে দেখে জামায়াতের দুই কর্মী তাকে দালাল সন্দেহে ধরে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করার চেষ্টা করেন। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
হাসপাতালের সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনার জন্য পাশের পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কোম্পানির (ওজোপাডিকো) কার্যালয়ে যান সংসদ সদস্য। এ খবর পেয়ে বিএনপির কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অফিসটি ঘিরে ফেলে এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ গিয়ে বিএনপির কর্মীদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
মারধরের শিকার রাকিবুল ইসলাম জানান, তিনি গত এক মাস ধরে হাসপাতালের শিক্ষানবিশ কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন, তবে এখনো নিয়োগপত্র পাননি। হঠাৎ জামায়াতের নেতারা এসে তাকে দালাল ভেবে মারধর করে পুলিশে দিতে চান। তিনি অভিযোগ করেন, এমপি সাহেবের দেহরক্ষী সরোয়ার হোসেন তাকে মারধর করেছেন।
অন্যদিকে, জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন, হাসপাতালের অনিয়ম ও দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধের উদ্যোগ নিতেই সংসদ সদস্য সেখানে পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে নতুন ভবনে রাকিবুল ইসলাম নামের এক দালালকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করার চেষ্টা করলে বিএনপির কর্মীরা তাদের ঘিরে হামলার চেষ্টা চালায়।
বিষয়টি নিয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে ওষুধ সংকট, চিকিৎসক না থাকা ও দালালদের দৌরাত্ম্য এখন চরম আকার ধারণ করেছে। এই অবস্থা তদারকির নামে জামায়াত অযাচিত বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। তিনি রাকিবুলকে মারধরের তীব্র নিন্দা জানান এবং বলেন, রাকিবুল হাসপাতালে লিফটের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সাজ্জাত হোসেন জানান, লোকবল সংকটের কারণে নতুন ভবনের সেবা স্বাভাবিক রাখতে সাময়িকভাবে কয়েকজনকে শিক্ষানবিশ হিসেবে রাখা হয়েছিল। তবে কোনো অনিয়ম বা দালালদের প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না। ঘটনার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, হাসপাতাল পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।




