কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব দিন দিন বাড়লেও, নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা এখনও মানবিক দক্ষতাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ১০ জনের মধ্যে ৯ জন শীর্ষ নির্বাহী মনে করেন, প্রযুক্তিগত বা এআই দক্ষতার চেয়ে জীবন দক্ষতা বেশি প্রয়োজনীয়। এই গবেষণাটি ইঙ্গিত দেয় যে, এআই যতই শক্তিশালী হোক না কেন, মানবিক গুণাবলীর বিকল্প কিছু নেই।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারী নেতারা বিশেষ করে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা, কার্যকর নেতৃত্ব এবং জটিল সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের মতে, এই দক্ষতাগুলোই একটি প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে এবং এগিয়ে নিতে পারে। অন্যদিকে, শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত জ্ঞান নিয়ে কাজ করলে দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য পাওয়া কঠিন। জীবন দক্ষতা বলতে মূলত সেসব গুণ বোঝানো হয়েছে যা মানুষকে অন্যের সঙ্গে মিশতে, সিদ্ধান্ত নিতে এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা করে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মক্ষেত্রে অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয় করে দিলেও, এটি এখনও মানুষের মতো সহানুভূতি দেখাতে বা সৃজনশীল সমাধান দিতে পারে না। এই কারণেই নেতারা মনে করছেন, এআইয়ের যুগে জীবন দক্ষতা আরও বেশি মূল্যবান হয়ে উঠছে। প্রতিষ্ঠানগুলো এখন তাদের কর্মীদের মধ্যে এই দক্ষতা গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, কর্মশালা এবং নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে তারা কর্মীদের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা ও নেতৃত্বের গুণাবলি উন্নত করার চেষ্টা করছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান জীবন দক্ষতার ওপর জোর দেয়, তারা কর্মীদের মধ্যে উচ্চতর মনোবল এবং উৎপাদনশীলতা দেখতে পায়। কর্মীরা নিজেদের মূল্যবান মনে করেন এবং কাজে আরও নিবেদিত হন। অন্যদিকে, শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর নির্ভর করলে কর্মীরা দ্রুত হতাশ হয়ে পড়তে পারেন এবং প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নেতাদের এই মতামত বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও একটি বার্তা। প্রচলিত শিক্ষায় প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও, ভবিষ্যতে জীবন দক্ষতাকে সমানভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা, নেতৃত্ব এবং সমস্যা সমাধানের ওপর আলাদা কোর্স চালু করা প্রয়োজন বলে মত দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

সবশেষে, গবেষণাটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এআই যত উন্নতই হোক না কেন, মানুষই থাকবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে। তাই প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি জীবন দক্ষতা অর্জন করাই হবে আগামী দিনের সফল পেশাজীবীর মূল বৈশিষ্ট্য।