শিশু-কিশোরদের মধ্যে সৃজনশীল দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত জাতীয় চিত্রশালা, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে দিনব্যাপী উৎসব ‘শ্রাবণ মেঘের দিন ২০২৬’। জলছবি নামক প্রতিষ্ঠানটি এই উৎসবের আয়োজন করছে, যেখানে অ্যাসোসিয়েট পার্টনার হিসেবে রয়েছে দৈনিক প্রথম আলো এবং ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে রয়েছে কিশোর আলো।

আয়োজকদের বরাত থেকে জানা গেছে, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল বিনোদনের প্রতি শিশুদের আসক্তি কমিয়ে তাদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরি করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। নিয়মিতভাবে এমন সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম তৈরির ধারাবাহিকতায় এবারের আয়োজন করা হচ্ছে। উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিশুরা নিজেদের ভেতরের সাংস্কৃতিক প্রতিভা প্রকাশের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা গড়ে তোলার সুযোগ পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দিনব্যাপী এই উৎসবে শিশু-কিশোরদের জন্য রাখা হয়েছে নানা ধরনের প্রতিযোগিতা। এর মধ্যে রয়েছে চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা ও অভিনয়। এসব প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুরা নিজেদের সৃজনশীল দক্ষতা প্রদর্শনের পাশাপাশি নিজেকে প্রকাশ করার সাহস অর্জন করতে পারবে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ভ্রমণপিপাসু হোমায়েদ ইসহাক মুনের ভ্রমণবিষয়ক গল্প ও অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রাণবন্ত এক পরিবেশনা। তিনি দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানোর নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন, যা শিশুদের মধ্যে ভ্রমণ ও অন্বেষণের আগ্রহ জাগিয়ে তুলবে।

শুধু প্রতিযোগিতা বা পরিবেশনা নয়, উৎসবে শিশুদের জন্য রয়েছে বিনোদনমূলক ও শিক্ষণীয় আরও কিছু আয়োজন। মনোমুগ্ধকর পাপেট শো ছোটদের জন্য একটি জনপ্রিয় আকর্ষণ হিসেবে থাকছে। এছাড়াও রয়েছে মাটির কাজ বা ক্লে নিয়ে হাতে-কলমে ওয়ার্কশপ, যেখানে শিশুরা নিজ হাতে মাটি দিয়ে বিভিন্ন আকৃতি তৈরি করার সুযোগ পাবে। শিক্ষাবিদদের মতে, এ ধরনের হাতে-কলমে কাজ শিশুদের মোটর দক্ষতা ও সৃজনশীল চিন্তাভাবনার বিকাশে সহায়ক।

উৎসবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সারা দিনব্যাপী নারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা মেলা। এই মেলায় বিভিন্ন নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ পাবেন। অভিভাবকদের জন্যও এই মেলা একটি বাড়তি আকর্ষণ হতে পারে, যেখানে তারা দেশি উদ্যোক্তাদের নানা উদ্ভাবনী পণ্য দেখতে পারবেন।

আয়োজনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিশু-কিশোরের জন্য থাকছে অংশগ্রহণ সনদ, যা তাদের জন্য এক ধরনের স্বীকৃতি হিসেবে কাজ করবে। দিনের শেষভাগে থাকবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সংগীত, নৃত্য ও ব্যান্ড শোতে অংশ নেবেন জলের গানের কনক আদিত্য, আকিব হুসাইনের ব্যান্ড ‘দ্য কিং’সহ আরও অনেকে। এই পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের রঙিন সমাপ্তি ঘটবে। এছাড়াও বিশিষ্ট অতিথিদের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য অনুষ্ঠানে যোগ করবে নতুন মাত্রা, যা উপস্থিত শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের পথচলায় প্রেরণা জোগাবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই উৎসবের মাধ্যমে শিশু-কিশোররা কেবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েই ক্ষান্ত থাকবে না, বরং একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার, নতুন বন্ধুত্ব গড়ে তোলা এবং দলগত কাজের মানসিকতা তৈরি করারও সুযোগ পাবে। বর্তমানে যখন শিশুরা প্রায়ই মুঠোফোন ও ডিজিটাল স্ক্রিনে আসক্ত হয়ে পড়ছে, তখন এ ধরনের সরাসরি অংশগ্রহণমূলক আয়োজন তাদের জন্য এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশে এমন আয়োজন শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা তাদের ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্ব গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মঞ্চে উঠে আবৃত্তি করা বা উপস্থিত বক্তৃতায় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে একজন শিশু নিজের ভেতরের জড়তা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পায়। একইভাবে চিত্রাঙ্কন বা অভিনয়ের মতো মাধ্যমগুলো শিশুদের নিজস্ব অনুভূতি প্রকাশের একটি ভাষা হয়ে ওঠে।

নিবন্ধন কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আগ্রহী শিশু-কিশোর ও তাদের অভিভাবকদের দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকেরা। নিবন্ধনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য জলছবির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। আয়োজকদের বিশ্বাস, প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের সাংস্কৃতিক চর্চার ধারা অব্যাহত থাকবে এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাসের বীজ বপন হবে। ৩১ জুলাই সেগুনবাগিচার জাতীয় চিত্রশালা তাই অপেক্ষা করছে এক রঙিন, প্রাণবন্ত ও শিক্ষণীয় দিনের।