সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, শেখ হাসিনার ফেরা কোনো স্বাধীন সিদ্ধান্ত নয়, বরং তা ঘটবে ফাঁসির রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। ন্যাশনাল এসএমই অ্যাসোসিয়েশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
নাহিদ ইসলাম রয়টার্সে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, কেউ একজন ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিন্তু তিনি স্পষ্ট করে দেন, এটি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত পরিকল্পনার বিষয় নয়। বরং কীভাবে তিনি আসবেন, কাদের সঙ্গে নিয়ে আসবেন বা আত্মসমর্পণ করবেন কিনা—এসব সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকার নির্ধারণ করবে। তাঁর মতে, এ নিয়ে দিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া তৃতীয় কোনো পক্ষ নেই। তাই সরকারকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে কখন, কী প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা হবে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জোর দিয়ে বলেন, গণহত্যাকারীকে যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা সরকারের দায়িত্ব। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে রায় প্রদান সম্পন্ন হয়েছে। তিনি এই রায় দ্রুত কার্যকর করাকে দেশের স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সতর্ক করে দেন, এর বাইরে অন্য কোনো পরিকল্পনা কারও জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে না।
আওয়ামী লীগ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন, এটি দিল্লির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি সংগঠন, কোনো স্বাধীন রাজনৈতিক দল নয়। ফলে শেখ হাসিনা যা বলছেন, তা মূলত দিল্লির অনুমতির প্রতিফলন। তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা নিজ দলের নেতা-কর্মীদের পরিত্যাগ করে দিল্লিতে পলায়ন করেছেন। এনসিপি নেতা আরও হুঁশিয়ারি দেন, যদি শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয় এবং সরকার তা প্রশ্রয় দেয়, তাহলে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে সরকার নিজেই।
অনুষ্ঠানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ (ইনু) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, ইনুর এই রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং দেশের বিচারব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। একইসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ বিষয়ে সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীরা রাজনৈতিকভাবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।




