রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রণীত লিখিত দলিল নিয়ে বর্তমানে টানাপোড়েন চলছে। তাঁর মতে, এই অবস্থায় কার শক্তি বেশি তা আগামী দিনে প্রমাণিত হবে।
'আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ' শীর্ষক সভাটি আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। এতে সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান (মঞ্জু)। অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।
হামিদুর রহমান আযাদ তাঁর বক্তৃতায় বলেন, সারাজীবন সংস্কারের কথা বলার পর ঐকমত্য কমিশনে সবাই মিলে আলোচনার মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেছে। এরপর রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনার পর জাতিকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয় দেশ ও জাতির স্বার্থে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য এক মঞ্চে এসে সনদে স্বাক্ষর করা হলেও এখন সেগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া হচ্ছে না। ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দেওয়া সত্ত্বেও মৌলিক সংস্কারের অনেক অধ্যাদেশ সংসদে বাদ পড়ে গেছে।
গণভোটের অধ্যাদেশ রহিত করে জনআকাঙ্ক্ষার গণভোটকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই জামায়াত নেতা। তবে আদালতের সাম্প্রতিক রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়াকে তিনি সুখবর হিসেবে উল্লেখ করেন।
সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়, বরং সংবিধান সংস্কারের জন্যই জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া অবলম্বন করে জাতিকে বোকা বানানোর চেষ্টা করা যাবে না, কারণ অতীতে অনেক সংশোধনী আদালতে বাতিল হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংসদ তখনই কার্যকর হবে যখন সরকার ও বিরোধী দলের বক্তব্য সমন্বয় করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। বর্তমানে সংসদে হালকা-পাতলা বিষয়ে সময় ব্যয় করা হচ্ছে বলেও তাঁর অভিযোগ। দেশ থেকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি নির্মূলের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শুধু অপরাধীদেরই নয়, যারা নির্দেশ ও মদদ দিয়েছে তাদেরও বিচার করতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মায়ের স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি সংসদের স্পিকারের কাছে দেওয়া হয়েছে। সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা এবং সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার যে পথে হাঁটছে তা জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীত এবং জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, সংসদ যদি সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই সমাধান খুঁজতে হবে।




