বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ সময় তিনি শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে প্রাসঙ্গিক নয় বলে উল্লেখ করেন। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, 'বাংলাদেশের আদালত একজনকে সাজা দিয়েছে, যিনি দেশে বহু অন্যায় ও অত্যাচার চালিয়ে বিদেশে পালিয়ে আছেন। তাই শেখ হাসিনা কী বলছেন বা বলছেন না, তা এখানে একেবারেই প্রাসঙ্গিক নয়।'

জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তাঁকে ভারত থেকে ফেরত আনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কোনো অগ্রগতি নেই—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, 'এ ব্যাপারে সময় লাগে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। সরকার আসার পর পুনরায় প্রক্রিয়া সচল করা হয়েছে। কূটনীতির কোনো ঘাটতি নেই, এটি অব্যাহত আছে।'

শেখ হাসিনাকে ফেরত আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কাজ করছে। পুরো প্রক্রিয়াটি চলমান।' ফেরানোর পথে আইনি জটিলতা আছে কিনা—এমন প্রশ্নে শামা ওবায়েদ জানান, 'আইনি জটিলতা আছে কি না, তা আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিস্তারিতভাবে দেখবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হচ্ছে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চালানো, যা আমরা করছি এবং এতে কোনো ঘাটতি আমি দেখছি না।'

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে কূটনৈতিক চ্যানেল খোলা হয়েছিল, সেই চ্যানেলেই আলোচনা চলছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় বা অন্য যে কোনো প্রোটোকল ও রীতিনীতি অনুযায়ী তাকে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে। শেখ হাসিনাকে ফেরত এনে বিচার করার দাবি বাংলাদেশের জনগণের—এ কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'দেশে যে অন্যায়, দুর্নীতি, খুন-গুম হয়েছে, তার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে।'

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন পদে রদবদল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন ও রদবদল একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটি নতুন কিছু নয়। তিনি জানান, 'সরকার থেকে প্রয়োজনীয় বিবৃতি দেওয়া হবে, তখনই জানা যাবে কেন, কোথায়, কীভাবে ও কোন কারণে রদবদল হচ্ছে।' তিনি দাবি করেন, দেশের প্রতি আন্তরিকতা, ব্যক্তির দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই যেকোনো মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ ও রদবদল করা হচ্ছে।