পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করে নিয়েছে তেহরান। ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামে পরিচিত এই অন্তর্বর্তী চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য ইরান সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি শনিবার এক ঘোষণায় এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।
উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘরিবাবাদি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আওতায় থাকা তাদের সব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন ও স্থগিত করেছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে তেহরান দেশ রক্ষায় মনোনিবেশ করেছে এবং চুক্তির কোনো প্রতিশ্রুতি তারা আর বাস্তবায়ন করছে না। ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, মার্কিন পদক্ষেপের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ইরান এই অবস্থান নিয়েছে।
গত জুন মাসে সই হওয়া এই সমঝোতা স্মারকে মোট ১৪টি দফা ছিল। এর প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে ছিল কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং কয়েক সপ্তাহের সংঘর্ষের পর উভয়পক্ষের মধ্যে ধাপে ধাপে উত্তেজনা হ্রাস করা। কিন্তু সম্প্রতি মার্কিন হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়ে। ইরানি কর্মকর্তারা আগেও সতর্ক করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক আগ্রাসন এই সমঝোতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
সংঘাতের সর্বশেষ পরিস্থিতিতে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ জুলাই থেকে পুনরায় শুরু হওয়া মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন সেনাদের আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোও ‘অনুরূপ পাল্টা জবাবের’ সম্মুখীন হবে।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সংঘাত নতুন এক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। শুক্রবার রাতের একটি মার্কিন হামলায় ইরানের একটি পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দার সুপেয় পানির সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে, ইরানের কেশম দ্বীপের উপকণ্ঠে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে, কুয়েতের সামরিক বাহিনী ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং বাহরাইনে বারবার বিমান হামলার সাইরেন বাজছে। কুয়েত সিটির দক্ষিণে মাঙ্গাফ এলাকায় ইরানি হামলার পর সেখানে কালো ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখা গেছে। এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে চুক্তি স্থগিতের এই ঘোষণা এল, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিল।




