বিশ্বকাপ ফুটবলের সুবাদে যুক্তরাষ্ট্রে আসা বিদেশি পর্যটকরা দেশটির দৈনন্দিন সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান যেমন র্যাঞ্চ ড্রেসিং, ওয়াফল হাউস ও বড় দোকানের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন বলে ফরচুন ম্যাগাজিনের এক মতামতকলামে উল্লেখ করা হয়েছে। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ডেভিড বোহিজিয়ান সম্প্রতি ফরচুন ডটকমে প্রকাশিত এই কলামে যুক্তি দিয়েছেন যে এসব অভিজ্ঞতা কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতি হিসেবে কাজ করছে। তাঁর মতে, শুধু চুক্তি ও বৈঠকের মাধ্যমে নয়, বস্তুনিষ্ঠ অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই অন্য দেশের মানুষের হৃদয় জয় করা সম্ভব।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের সমীক্ষার উদ্ধৃতি দিয়ে নিবন্ধে বলা হয়, বিশ্বের ৩৬টি প্রধান দেশের মাত্র ৩৭ শতাংশ নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা রাখেন। কিন্তু যারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে এসে দেশটির সংস্কৃতি ও জনগণের সংস্পর্শে আসেন, তাদের মধ্যে এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের মতো বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান কূটনীতির ঐতিহ্যবাহী মাধ্যম হলেও বর্তমান বিশ্বে বেসরকারি খাত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর ভূমিকাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

এ প্রসঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটর লিডারশিপ প্রোগ্রামের একটি উদাহরণ টানা হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসা এক জ্যামাইকান প্রতিনিধি কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়াম ও ওয়াশিংটন কমান্ডার্সের নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে জ্যামাইকায় ২০৩১ নারী বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ধারণা দিয়েছে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনায় ফরচুনের কলামে বলা হয়, অনেক অপ্রচলিত নিয়মকানুন সংশোধন করে ছোট প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বিনিময় ও বাণিজ্য মিশনে অংশ নেওয়ার পথ সহজ করা দরকার। উদাহরণস্বরূপ, ওভারসিজ প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশনের সংস্কারের কথা উল্লেখ করে লেখক বলেন, ২০১৮ সালের বিল্ড আইন পাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশনে রূপান্তরিত করা হয়, যা বিশ্বব্যাপী অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। এই পদক্ষেপকে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে নিবন্ধে।

লেখকের মতে, ট্রিটি বা যৌথ বিবৃতির চেয়ে মানুষকে অনুপ্রাণিত করার মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্র বেশি সাফল্য অর্জন করবে। সাধারণ র্যাঞ্চ ড্রেসিং থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্রীড়া লিগ—সবই সফট পাওয়ারের সম্ভাব্য মাধ্যম। বিশ্বকাপের মাধ্যমে এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সমসাময়িক বিশ্বনেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে তার সব সফট পাওয়ার সম্পদ কাজে লাগাতে হবে, কারণ সফট পাওয়ারই হলো ‘আমেরিকার প্রকৃত গোপন সস’।