অভিবাসনে কড়াকড়ি আর বেবি বুমার প্রজন্মের অবসরের জোয়ারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সংজ্ঞা বদলে যেতে পারে। সাধারণত, শ্রম দপ্তরের মাসিক প্রতিবেদনে জোরালো চাকরিবৃদ্ধি বেকারত্ব কমায় আর নিয়োগ দুর্বল হলে বেকারত্ব বাড়ে। দীর্ঘদিন ধরে মাসে ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার কর্মসংস্থান প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হতো। কিন্তু শ্রমিকের সরবরাহ সংকুচিত হলে অঙ্কটি ভিন্ন চেহারা নেয়।
ডালাস ফেডের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের গ্রীষ্ম ও শরৎকালে বেকারত্বের হার স্থির রাখতে নিট কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথা ব্রেকইভেন রেট সামান্য নেতিবাচক হয়েছিল। এর অর্থ, বেতন তালিকা স্থবির থাকলেও বা কমলেও বেকারত্ব বাড়বে না। অক্সফোর্ড ইকোনমিক্স বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, বর্তমান ব্রেকইভেন রেট প্রায় ৫০,০০০ কর্মসংস্থান, যা ২০২২ ও ২০২৩ সালের ২ লাখের বেশি থেকে অনেক কম। ওই সময়ে অভিবাসন বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনে বিধিনিষেধ বিদেশি শ্রমিকের আগমন কমিয়েছে। পাশাপাশি বার্ধক্যজনিত কারণে শ্রম অংশগ্রহণও হ্রাস পেয়েছে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের অর্থনীতিবিদ ম্যাথিউ মার্টিন ও বার্নার্ড ইয়ারোস মন্তব্য করেছেন, "আজ শ্রমবাজারের গতিসীমা কয়েক বছর আগের তুলনায় অনেক কম, যা 'কর্মহীন সম্প্রসারণের' পটভূমি তৈরি করছে।" তাদের অনুমান, ট্রাম্পের নীতি বহাল থাকলে এবং ২০২৬ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে চূড়ায় ওঠা বেবি বুমারদের অবসর ধারা শ্রমশক্তিকে চেপে ধরায় ২০২৮ সালে ব্রেকইভেন রেট শূন্য হয়ে সামান্য ঋণাত্মক হবে।
ব্রেকইভেন রেট কমে গেলেও ছাঁটাই হবে না। বরং স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতে ধীরে ধীরে কর্মসংস্থান কিছুটা ইতিবাচক থাকবে। আগামী দুয়েকে বেকারত্বের ওপর "মৃদু নিম্নমুখী চাপ" থাকবে। তাই বেতনের প্রতিবেদন নিস্তেজ হলে ফেডারেল রিজার্ভ সুদহারে কাঁটায় ফিরবে না, যদি না বড় ধরনের দুর্বলতার লক্ষণ ও বেকারত্বের উল্লম্ফন ঘটে।
এই নিম্ন-নিয়োগ, নিম্ন-ছাঁটাই পরিবেশে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় নিয়গ্র্রক ভূমিকা রাখতে পারে, যেখানে কিছু অনাগরিক কর্মীর সাময়িক সুরক্ষিত অবস্থা শেষ করা যাচ্ছে। বিএনপি পারিবার অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এর ফলে নথিভুক্ত শ্রমিকশক্তি কয়েক লাখ হ্রাস পেতে পারে, যা বেকারত্বের ওপর আরও নিম্নচাপ তৈরি করবে এবং কোভিড মহামারির সময়কার মতো ‘শ্রম মজুদ’ (লেবর হোর্ডিং) প্রবণতা বাড়াবে।




