আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার মারিও কেম্পেস মনে করেন, আজ রাতের বিশ্বকাপ ফাইনালটি দর্শকদের জন্য বিরক্তিকর হবে না। তাঁর ভাষায়, দুই শক্তিশালী দলের লড়াই মানেই উত্তেজনা আর প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশলই নির্ধারণ করবে জয়-পরাজয়।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লাওতারো মার্তিনেজের সেমিফাইনালের গোলটি সম্পর্কে কেম্পেস বলেন, এটি এমন এক মুহূর্ত যা কখনো ভোলা যাবে না। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে গোল করার সৌভাগ্য সবার হয় না এবং লাওতারো তা করে দেখিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শহরে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা সমর্থক দেখে তিনি মুগ্ধ, খেলোয়াড়রাও ভক্তদের ভালোবাসায় ভাসছেন।

লাওতারোকে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে গোল করা নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে কিনা—এমন প্রশ্নে কেম্পেস বলেন, বিশ্বকাপের গুরুত্ব অন্য কিছুর সাথে তুলনীয় নয়। লাওতারো ইতিমধ্যে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার, ইন্টার ও জাতীয় দলে অসাধারণ পারফর্ম করছে। ইন্টারে বিদেশি হয়েও অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পাওয়াটা তার সামর্থ্যের প্রমাণ।

ফাইনালে লাওতারো বেঞ্চে থাকবেন কিনা—জানতে চাইলে কেম্পেস বলেন, তিনি নিশ্চিত নন। আর্জেন্টিনার কৌশলে মেসির পাশে একজন স্ট্রাইকার দরকার, তা হুলিয়ান আলভারেজ বা লাওতারো যেই হোক। বর্তমান ফুটবলে বেঞ্চ থেকে নেমেও ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে খেলোয়াড়রা।

লাওতারো ও আলভারেজের মধ্যে কাকে এগিয়ে রাখবেন—কেম্পেস এড়িয়ে যান, বলেন তাদের তুলনায় আগ্রহী নন। দুজনই নিজের কাজ ঠিকমতো করে আর মেসি তা সহজ করে দেয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, লাওতারো পেনাল্টি বক্সের খেলোয়াড়, গোলের জন্যই জন্ম; অন্যদিকে আলভারেজ সৃষ্টিশীল, ডিফেন্সকে টার্গেট করে খেলে। তিনি আশা করেন, ফাইনালের পর দুজনেই দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতবে। কোচ স্কালোনি ভাগ্যবান যে তার কাছে এ দুজন রয়েছে, পরিস্থিতি বুঝে যে কাউকে নামাবেন।

লাওতারোকে যদি কিছু বলার সুযোগ পেতেন—কেম্পেস বলতেন, নিজের মতো খেলতে, বড় ম্যাচকে সাধারণ মনে করতে হবে, যাতে চাপ না বাড়ে। লাওতারো ইতিমধ্যে চাপের মধ্যে খেলতে জানে, তাই অতিরিক্ত কিছু বলার প্রয়োজন নেই।

ফাইনাল কেমন হবে—জানতে চাইলে কেম্পেস আশা করেন জমজমাট ম্যাচ। দুই ফেবারিট দল মুখোমুখি, বল ধরে রেখে প্রেস করতে পারা দলই জিতবে। আর্জেন্টিনা ও স্পেন উভয়ই এই কৌশলে পারদর্শী। তিনি এটিকে 'পোট্রেরো বনাম টিকিটাকা' তথা রাস্তার অনিশ্চিত ফুটবল বনাম ছকে বাঁধা ফুটবলের লড়াই বলে উল্লেখ করেন। এনজো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার মিসাইল নিয়েও আলোচনা আসে, যা স্পেনের ঘুম কেড়ে নিতে পারে।