প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিজস্ব পরিচয় ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো (আইডেন্টিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার) তৈরির ধারা এখন আর টেকসই নয় বলে মত প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে বহু কোম্পানি নিজস্ব লগইন, প্রোফাইল ম্যানেজমেন্ট ও অথেনটিকেশন সিস্টেম গড়ে তুলছে। কিন্তু এই পদ্ধতি শুধু ব্যয় ও জটিলতা বাড়াচ্ছে না, বরং গোপনীয়তা রক্ষা এবং ডেটা সুরক্ষায়ও কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। তাই ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য এমন একটি সমাধানের দিকে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে যা পুনর্ব্যবহারযোগ্য এবং সর্বোপরি ব্যবহারকারীর গোপনীয়তাকে অগ্রাধিকার দেয়।

এই প্রেক্ষাপটে একটি নিরপেক্ষ যাচাইকরণ সংস্থা বা ব্যুরো প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই নিরপেক্ষ ব্যুরো পরিচিতি যাচাইয়ের একটি সাধারণ মান নির্ধারণ করবে, যা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতে পারবে। এর ফলে প্রতিটি কোম্পানিকে আলাদাভাবে নিজস্ব আইডি সিস্টেম বানাতে হবে না। একইসঙ্গে এই পদ্ধতি তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। এতে করে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মূল ব্যবসায় মনোযোগ দিতে পারবে, পাশাপাশি ডিজিটাল বিশ্বাসের পরবর্তী যুগের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে।

নিরপেক্ষ ভেরিফিকেশন ব্যুরোর ব্যবহার গ্রাহক এবং ব্যবসা উভয়ের জন্যই সুবিধাজনক। গ্রাহকদের একাধিকবার একই তথ্য প্রদানের প্রয়োজন হবে না, কারণ একটি কেন্দ্রীয় নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম তাদের পরিচয় যাচাই করবে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সেই যাচাইকৃত তথ্য ব্যবহার করতে পারবে। এ ধরনের ব্যবস্থা ডেটা লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমায় এবং পরিচয় চুরির মতো অপরাধ প্রতিরোধে সহায়ক হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের জন্য একটি ‘পাবলিক ইউটিলিটি’-এর মতো কাজ করবে।

সংস্থাগুলোর জন্য এই পরিবর্তন প্রথম দিকে চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি অধিকতর নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য। বর্তমানে প্রযুক্তি খাতে প্রতিযোগিতা তুঙ্গে। যারা নিজস্ব আইডি সিস্টেম বানাতে গিয়ে সম্পদ ও সময় নষ্ট করবে, তারা এখন থেকে আরও উন্নত ও সুসংহত ডিজিটাল ট্রাস্ট প্ল্যাটফর্মের দিকে না সরলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। তাই পরামর্শ হলো, দ্রুত পুনর্ব্যবহারযোগ্য, গোপনীয়তা-প্রথম অবকাঠামো গ্রহণ করা এবং এর অংশ হিসেবে একটি নিরপেক্ষ যাচাইকরণ ব্যুরো প্রতিষ্ঠা করা।

এই পরিবর্তন পুরো ডিজিটাল বাণিজ্যের চিত্র বদলে দিতে পারে। গ্রাহকরা তাদের তথ্যের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ পাবে, যার ফলে অনলাইন লেনদেনে আস্থা বাড়বে। ব্যবসার জন্যও এটি একটি যৌক্তিক পদক্ষেপ, কারণ তাদের কম খরচে বিশ্বস্ত পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হবে। ডিজিটাল বিশ্বাসের পরবর্তী যুগের ভিত্তি এই পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও নিরপেক্ষ পরিচয় ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে বলে মতামত বিশেষজ্ঞ মহলের।