সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে অবৈধভাবে পাচারের চেষ্টার সময় ৮ জন রোহিঙ্গাসহ মোট ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গত সোমবার বিকেলে এই অভিযান চালানো হয়। আটক করা রোহিঙ্গাদের মধ্যে সবাই কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ক্যাম্প-১ এর বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, আটক রোহিঙ্গাদের সিলেট নগরের কদমতলী এলাকা থেকে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে কানাইঘাটে আনা হয়েছিল। তাদের দনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। এই পাচারের উদ্দেশ্যে দিঘিরপাড় ইউনিয়নের সুরমা নদীর কুওরেরমাটি বটরবাজার এলাকায় একটি নৌকা আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
এই পাচার চক্রের সাথে জড়িত হিসেবে কানাইঘাটের এরালীগুল গ্রামের ২২ বছর বয়সী আছাদ এবং বড়খেরড় গ্রামের একই বয়সী সাদ্দাম হোসেনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এছাড়া অটোরিকশা চালক হিসেবে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার রফিক (৬৫) এবং নেত্রকোনার এলাছ উদ্দিন (৪৪)-কে আটক করা হয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হয় এক নাটকীয় মোড়ে। নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় নৌকার মাঝির সঙ্গে পাচারকারী দালালদের বারবার ফোনালাপ স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে। এরপর কুওরেরমাটি মাদ্রাসার সামনে অটোরিকশা দুটি থামিয়ে স্থানীয়রা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে পাচারের পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে রোহিঙ্গাদের এবং পাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, কুতুপালং ক্যাম্প থেকে পালিয়ে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করা এই আটক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সাথে পাচার চক্রের বাকি সদস্যদের শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।




