দিনাজপুরের বিরামপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বুধবার সন্ধ্যা সাতটার কিছু আগে বিরামপুর পৌর শহরের ঢাকা মোড়ে বিরামপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির বিরামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মিঞা মো. শফিকুল আলম।

মন্ত্রী তার বক্তব্যে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা ধৈর্য ধারণ করবেন। কোনো অবস্থাতেই কেউ গালি দিলে তাকেও পাল্টা গালি দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। কেউ যদি আপনাকে ধাক্কাও দেয়, কোনো অবস্থাতেই তাকে পাল্টা ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। মনে রাখবেন, মানুষ এগুলো পছন্দ করে না। একটা সময় আসলে জনগণই এর জবাব দেবে।’ তিনি আরও বলেন, পলায়নকৃত বা পতিত স্বৈরাচার যেন বাংলাদেশে বা বিরামপুরে কোনো স্থান না পায়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্য সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী তার ভাষণে উল্লেখ করেন, বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য ১৭ বছর ধরে চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু দেশের মানুষ ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকেই বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই ভাবার কোনো কারণ নেই—জিয়ার সৈনিকেরা, বিএনপির ধানের শীষের সৈনিকেরা ঘুমিয়ে থাকবে। আর আপনারা মনে করেছেন, যা ইচ্ছা তাই করে ফেলবেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে, জনগণকে পাশে নিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবেলার ক্ষমতা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আছে।’ তিনি জনগণের ওপর আস্থা রাখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘জনগণের বিচারই সঠিক বিচার।’

আলোচনা সভা শুরুর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠ থেকে একটি বিজয় মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পৌর শহরের দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক হয়ে ঢাকা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জেলা শাখার সহসভাপতি তোছাদ্দেক হোসেন, বিরামপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী চৌধুরী, পৌর শাখার সভাপতি হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, হাকিমপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ফেরদৌস রহমান, সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেনসহ আরও অনেকে।