পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার এলাকায় অবস্থিত সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে বুধবার সন্ধ্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মো. নূর মোহাম্মদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি একইসাথে ইনকিলাব মঞ্চের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এই হামলায় তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং বর্তমানে তিনি ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য রাকিব শিকদার। তিনি জানান, গত দিনের এক হামলায় আহত দলের আরেক সদস্যকে দেখার উদ্দেশ্যে তাঁর বাসায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তারা। সে সময় সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তাঁদের ঘিরে ফেলে। এরপর হামলাকারীরা একটি অজ্ঞাত নম্বরে ভিডিও কল করে নূর মোহাম্মদের পরিচয় নিশ্চিত করে এবং তাঁদের বেধড়ক মারধর শুরু করে। এই হামলায় নূর মোহাম্মদ ছাড়াও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য ইসমাইল হোসেন তানিম, রাকিব শিকদার ও আলফাজ নামের আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা একটি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদের ওপর হামলা করেছে ছাত্রদল।’ একইসাথে ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেছেন জকসুর সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম। তিনি ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘ছাত্রদল কি এখন গুন্ডা পোষা শুরু করেছে? সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের কর্মীরা জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নূর মোহাম্মদসহ নারী শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের কাছে তিনি হামলাকারীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। নইলে আজ যারা অন্যের ওপর হামলা করছে, আগামীকাল তারাই আরও বড় অপরাধ করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তবে হামলার এই অভিযোগ সম্পর্কে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, এর আগেও রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ বুধবার এক দিনেই তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে খবর পাওয়া গেছে।



