বিশ্বজুড়ে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে মৌলিক কনটেন্ট নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। এই লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই নেটফ্লিক্স। ফ্লিক্সপ্যাট্রোলের প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, দর্শকদের চমকপ্রদ ভিজ্যুয়াল এফেক্ট, রাজকীয় পরিবেশের সেট এবং উন্নত সিনেমাটোগ্রাফির অভিজ্ঞতা দিতে প্ল্যাটফর্মটি শত শত মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। এই প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতায় নেটফ্লিক্সের সবচেয়ে ব্যয়বহুল পাঁচটি সিরিজের বাজেটের বিস্তারিত জানা গেছে।
তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে ‘দ্য ক্রাউন’-এর পঞ্চম সিজন। ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসকে পর্দায় রাজকীয়ভাবে ফুটিয়ে তোলাই ছিল নির্মাতাদের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। নব্বইয়ের দশকের রাজকীয় আবহ, পোশাক এবং রাজপ্রাসাদের অনুকরণে নির্মিত সেট তৈরিতে নেটফ্লিক্স সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করে। এই সিজনের জন্য প্ল্যাটফর্মটির ব্যয় দাঁড়ায় ১৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা সিরিজটিকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল করে তোলে।
চতুর্থ অবস্থানে আছে ‘দ্য স্যান্ডম্যান’-এর প্রথম সিজন। নিল গেইম্যানের বিখ্যাত কমিক বইয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই সিরিজে স্বপ্নের দেবতার কাহিনি উপস্থাপিত হয়েছে। কাল্পনিক ও পরাবাস্তব জগৎকে বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলতে উচ্চমানের বিশেষ প্রভাবের প্রয়োজন হয়েছিল। নির্মাতাদের সেই লক্ষ্যে নেটফ্লিক্স ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার খরচ করে দর্শকদের ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা উপহার দেয়ার চেষ্টা করে।
তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ‘দ্য উইচার’-এর দ্বিতীয় সিজন। প্রথম সিজনে তুলনামূলকভাবে কম বাজেট থাকলেও দ্বিতীয় পর্বে আরও জাঁকজমকপূর্ণ ফ্যান্টাসি জগৎ গড়ে তোলা হয়। দানব শিকারি জেরাল্ট অব রিভিয়ার কাহিনিতে চোখধাঁধানো অ্যাকশন দৃশ্য এবং জাদুকরি প্রাণীর অ্যানিমেশন তৈরিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়। সিরিজটির জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ১৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার।
দ্বিতীয় অবস্থানে অবস্থান করছে ‘থ্রি বডি প্রবলেম’-এর প্রথম সিজন। বিখ্যাত সায়েন্স ফিকশন উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই জটিল ও মহাজাগতিক সিরিজটি মুক্তির পরপরই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। এলিয়েন ইনোভেশন এবং পদার্থবিজ্ঞানের তত্ত্বকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে নেটফ্লিক্স রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে। এটি প্ল্যাটফর্মটির ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রথম সিজনের বাজেট হিসেবে বিবেচিত, যার মোট পরিমাণ ২৩ কোটি ৩১ লাখ ডলার।
তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে বিশ্বখ্যাত বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ও হরর ঘরানার সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর চতুর্থ সিজন। হকিন্স শহরের রহস্যময় আপসাইড ডাউন জগৎকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতেই নির্মাতাদের বিপুল বিনিয়োগ করতে হয়। একেকটি পর্ব নির্মাণেই প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল বলে ফ্লিক্সপ্যাট্রোলের তথ্য থেকে জানা যায়। পুরো সিরিজের বাজেট ৩০ কোটি ডলার, যা এই তালিকায় সর্বোচ্চ অঙ্কের বিনিয়োগ হিসেবে চিহ্নিত।




