জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ থেকে এবার বাদ পড়েছে গোপালগঞ্জ। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবসে’ গোপালগঞ্জে কেন্দ্রীয় নেতারা না গিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করবেন। দলের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাসব্যাপী এই পদযাত্রার পথনকশা প্রকাশ করা হয়। সেখানে প্রথমে গোপালগঞ্জের নাম থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা সংশোধন করে বাদ দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানান, প্রথম পর্যায়ে যেসব উপজেলা ও পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, সেসব স্থানেই পদযাত্রা পরিচালিত হবে। গোপালগঞ্জের একটি পৌরসভা সেই তালিকায় থাকলেও পুরো জেলায় কেন্দ্রীয় নেতাদের পদযাত্রা হচ্ছে না বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
পদযাত্রার প্রাথমিক সূচি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে এনসিপি একটি সংশোধিত তালিকা গণমাধ্যমে পাঠায়, যেখানে গোপালগঞ্জের কর্মসূচি আর ছিল না। এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে সারজিস আলম রোববার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ১৬ জুলাই রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে এনসিপির শীর্ষ নেতারা ব্যস্ত থাকবেন। এ ছাড়া গত বছরের একই তারিখে গোপালগঞ্জে পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল। এবারও সেই তারিখে কর্মসূচি পড়ায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
গোপালগঞ্জে পদযাত্রা না হলেও সেখানে ভিন্ন আঙ্গিকে কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান সারজিস। তিনি বলেন, স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সাংগঠনিক আলোচনা ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে দিবসটি পালন করবেন। এই কর্মসূচিতে ঢাকা থেকে কোনো কেন্দ্রীয় নেতা অংশ নেবেন না।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তিতে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এনসিপির শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন জেলায় গিয়েছিলেন। গোপালগঞ্জে যাওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ স্লোগানে প্রচার চালানো হয়। ওই বছর ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ও সহিংসতা দেখা দেয়, যেখানে চারজনের প্রাণহানি ঘটে। সেই সময় ১৪৪ ধারা জারি করা হয় এবং সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানের সহায়তায় এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
চলতি মাসে গোপালগঞ্জে পদযাত্রা না করলেও সেপ্টেম্বরে সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এনসিপির। দলের রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার প্রথম আলোকে বলেন, ইতিমধ্যে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। শিগগিরই বাকি স্থানগুলোতেও প্রার্থী দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারের অংশ হিসেবে সেপ্টেম্বরে যেসব জায়গায় প্রার্থী থাকবে, সেখানে যাওয়া হবে এবং গোপালগঞ্জও তার মধ্যে রয়েছে। একই কথা জানিয়েছেন রাজনৈতিক পর্ষদের আরেক সদস্য আলী আহসান জুনায়েদ। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি।




