ফরিদপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে বিএনপির দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আবারও জনসমক্ষে চলে এসেছে। গত শনিবার শহরের বাজার এলাকায় থানা রোড়ে আয়োজিত ‘নাগরিক আলোচনা ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দলের দুই গ্রুপের চাপা উত্তেজনা প্রকাশ্য রূপ নেয়।

এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং নগরকান্দা-সালথা আসনের সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ। ফরিদপুর সদর আসনের এমপি নায়াব ইউসুফকে বিশেষ অতিথির মর্যাদা দেওয়া হলেও তিনি অনুষ্ঠানে আসেননি। বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর-১ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি ইলিয়াস মোল্লা এবং সদর আসনে জামায়াতের পরাজিত প্রার্থী আবদুত তাওয়াব। জামায়াত নেতা তাওয়াব নেতৃবৃন্দের মধ্যে সম্প্রীতি কামনা করে বলেন, ভিন্নতা থাকলেও সকলে মিলেমিশে কাজ করা উচিত।

স্থানীয় বিএনপির অন্দরের ইতিহাস বলছে, ফরিদপুরে দলটির রাজনীতি শুরু থেকেই দ্বিধাবিভক্ত। এক পক্ষের নেতৃত্বে শামা ওবায়েদ, অপর পক্ষের নেতৃত্বে নায়াব ইউসুফ। এই বিভাজনের সূত্রপাত তাঁদের প্রয়াত পিতা কে এম ওবায়দুর রহমান ও চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের আমল থেকে। বস্তুত, শামা ওবায়েদকে নাগরিক সংবর্ধনা জানানোর লক্ষ্যেই তাঁর অনুসারীরা এই সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন।

অনুষ্ঠানের সমালোচনা করে নায়াব ইউসুফ প্রথম আলোকে মন্তব্য করেন, জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বিএনপির আদর্শের পরিপন্থী। তাঁর ভাষায়, “জামায়াত সূচ হয়ে ঢুকে, ফাল হয়ে বের হয়।” তিনি আরও অভিযোগ তোলেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন (জুয়েল) তাঁর বাসায় আমন্ত্রণপত্র দিয়ে গেলেও পরবর্তী সময়ে ফোনে যোগাযোগ করেননি। জুলফিকার হোসেন অবশ্য দাবি করেন, নায়াব ইউসুফের ফোন একাধিকবার রিসিভ করেও সাড়া মেলেনি।

প্রধান অতিথির ভাষণে শামা ওবায়েদ বলেন, “এই ফরিদপুর আমাদের সবার। এটা কারও একার ফরিদপুর নয়।” সামাজিক মাধ্যমে নায়াব ইউসুফের অনুসারীরাও সরব হন। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া ফেসবুকে লেখেন, তিনি তাঁর ভোটেই দলের এমপি নির্বাচিত হওয়ার কথা মাথা উঁচু করে বলতে পারেন, কিন্তু অন্য পক্ষ তা পারে কিনা— সেই প্রশ্ন তোলেন। জবাবে জুলফিকার হোসেন বলেন, সদস্যসচিব ব্যক্তিগতভাবে ভোট দিলেও তাঁর কেন্দ্রে ধানের শীষ পরাজিত হয়েছিল। এর আগেও গত ৭ মে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের উদ্বোধনে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে প্রকাশ্য সংঘর্ষ ঘটেছিল।