মার্কিন অর্থনীতি ও উদ্ভাবনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কংগ্রেসের সামনে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। সাবেক হোয়াইট হাউস যোগাযোগ পরিচালক ও স্কাইব্রিজ ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্থনি স্কারামুচ্ছি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রক অচলাবস্থায় থাকা একটি শিল্পের জন্য সুস্পষ্ট নিয়ম প্রণয়নের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করতে যাচ্ছে দেশটির আইনসভা। ফরচুন ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি যুক্তি দেখান, ক্ল্যারিটি আইন নামের এই বিলটি কেবল ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত নয়, বরং ভবিষ্যতের আর্থিক অবকাঠামোয় আমলিকার নেতন্ব নিশ্চিত করার বিষয়।
তার কথায়, বাজার সুস্পষ্ট নিয়মের উপর ভর করে বিকশিত হয়। উদ্যোক্তারা যখন জানেন নিয়ম কী, তখনই তারা বিনিয়োগ করেন এবং গ্রাহকরা অধিকতর সুরক্ষিত হন। অথচ আমলিকার সেরা উদ্ভাবকেরা পরবর্তী প্রজন্মের অর্থনৈতিক অবকাঠামো নির্মাণ করছেন, তাদেরকে আইনের বদলে মামলার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া বিনিয়োগ, উদ্ভাবন কিংবা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য মঙ্গলজনক নয়। আমরা যখন বৃত্তাকার বিতর্কে আটকে থাকি, তখন বিশ্ব আমাদের ছাড়া অগ্রসর হয়। প্রতিদিন কংগ্রেসের বিলম্ব এই বার্না দেয় যে, চাকরি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিসহ ফিনানশিয়াল ইন্নোভেশন রপ্তানি করতে আমলিকা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে।
স্কারামুই তার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক। তার মতে, নির্বাচিত কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারদের ক্রিপ্টোকারেন্সি ইস্যু করা, মিম কয়েনের প্রচার করা বা সরকারি পদ থেকে মুনাফা করার আভাসও দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু এই নৈতিকতার প্রশ্নগুলো সমাধানের দায় ক্ল্যারিটি আইনের মতো একটি বাজারকাঠামো বিলের উপর চাপানো উচিত নয়। তিনি স্বীকার করেন যে, গণতন্ত্রী সদস্যদের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে রিপাবলিকান ও হোয়াইট হাউস আইনটিতে কিছু নৈতিকতা বিধান গ্রহণ করেছে, যা মাসখানেক আগেও অকল্পনীয় ছিল। এটি দ্বিদলীয় আইন প্রণয়নেরই একটি সফল উদাহরণ।
তার যুক্তিতে, বিতর্ত এখন বিলটিতে যথোপযুক্ত নৈতিকতা বিধান আছে কিনা, তা নিয়ে নয়; বরং ফেডারেল নৈতিকতা আইনের বিস্তৃত কাঠামো পুনর্লিখনের বাহনে পরিণত করা হয়েছে। কোনো অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের এর উপর এখতিয়ার নেই। আর এখন এই প্যারাডাইম পরিবর্তনের অর্থ হলো আগামী কয়েক দশকের জন্য আমলিকাকে ফিনান্সনাল উদ্ভাবনের কেন্দ্ররূপে প্রতিষ্ঠার সেরা সুযোগটি নষ্ট করা। তিনি প্রস্তাব দেন, ফেডারেল নৈতিকতা আইনকে শক্তিশালী করার প্রয়োজন হলে কংগ্রেসের সরাসরি স্বার্থের দ্বন্দ্বের বিধি, প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা এবং ইনসাইডার ট্রেডিং আইন পর্যালোচনা করা উচিত, তবে একটি বাজার কাঠামো বিলে সমস্ত নৈতিকতার প্রশ্ন সমাধান করার চেষ্টা করা উচিত হবে না।
কংগ্রেসে এখন সেই বিন্দুতে পৌঁছেছে যেখানে নিখুঁত কিছুকে পেতে গিয়ে ভালোটাকে হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে, উদ্যোক্তাতাদের অপেক্ষার বিলাসিতা নেই, পুঁজি ওয়াশিংটনের আলোচনা অপেক্ষা করে না এবং প্রকৌশলীরা নির্মাণ বন্ধ রাখে না। কোথায় বিনিয়োগ করতে হবে, কোথায় পণ্য লঞ্চ করতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত দিনদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেই নেওয়া হচ্ছে—যা দল নির্বিশেষে প্রতিটি কংগ্রেস সদস্যের ভাবনার কারণ হওয়া উচিত। স্কারামুই শেষ বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, ক্লারিটি আইন হয়তো নিখুঁত নয়, কিন্তু এটি একটি গুরুতর, দ্বিদলীয় প্রচেস্থা। নৈতিকতা বিতর্ক আইনটিকে আরও মজবুত করেছে, কিন্তু তারই কারণে আমলিকার নেতন্ব হারানোর সুযোগ করা উচিত হবে না।




