নিজেদের দলেরই আরেক নেতার অনুসারীদের হাতে কুপিয়ে জখম হয়েছেন নরসিংদী সদর উপজেলার এক বিএনপি নেতা। ধারালো অস্ত্রের মাধ্যমে হামলা চালিয়ে তার কাছ থেকে ব্যাংক থেকে তোলা নগদ অর্থও ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল পাঁচটার দিকে নরসিংদী শহরের বড় বাজার এলাকায় এই হামলার ঘটনাটি সংঘটিত হয়।

আহত ব্যক্তি হলেন নজরুল ইসলাম, যার বয়স ৫২ বছর। তিনি সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পেশায় একজন পল্লিচিকিৎসক। নজরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নরসিংদী শহরের একটি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে রিকশায় করে মুরাদনগর গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হয়েছিলেন। বড় বাজার এলাকায় পৌঁছালে আট থেকে দশ জনের একটি দল তার রিকশার গতি রোধ করে। পরে তাকে জোরপূর্বক রিকশা থেকে নামিয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপ জখম করা হয়। হামলাকারীরা তার কাছে থাকা টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলেও তিনি দাবি করেছেন।

গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিপাশা মাসুক জানিয়েছেন, নজরুল ইসলামের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখমের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পর অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

নজরুল ইসলাম নিজের ওপর হামলার জন্য সরাসরি দায়ী করেছেন আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান আহ্বাহক আবদুল কাইয়ুম মিয়ার অনুগামী ব্যক্তিদের। তার অভিযোগ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং কৃষি জমির মাটি কাটার মতো নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর ফলশ্রুতি হিসেবে তাকে এই আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আবদুল কাইয়ুম মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে, নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তিনি আরও বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্রের খোঁজে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই অঞ্চলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, অবৈধ বালু ব্যবসা, জমি দখল ও চাঁদাবাজির মত বিভিন্ন ই্যুকে কেন্দ্র করে এই দুই নেতা ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র কোন্দল চলে আসছে। এই বিরোধের জেরে পূর্বেও একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে গত বছর দুই পক্ষের সংঘাতে তিন জন নিহত হয়েছিলেন।