জাপানের আট হাজারেরও বেশি অফিসকর্মীর ওপর পরিচালিত ২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রাত জেগে কাজ করার অভ্যাস নিজেই উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয় না। বরং কর্মীরা যখন নিজেদের স্বাভাবিক জৈবিক ছন্দের বিপরীতে কাজ করতে বাধ্য হন, তখনই তাদের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিটি মানুষেরই একটি নির্দিষ্ট জৈবিক সময়সূচি বা ক্রোনোটাইপ থাকে। কেউ সকালে বেশি সক্রিয় হন, আবার কারও কার্যক্ষমতা রাতেই বেশি।
তবে প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত কাঠামো অনেক সময় ভোরে ওঠা কর্মীদের পক্ষে সুবিধা তৈরি করে। ২০১৪ সালে জার্নাল অব অ্যাপ্লাইড সাইকোলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অফিসে আগে পৌঁছান, ব্যবস্থাপকেরা তাদের তুলনামূলক ভালো মূল্যায়ন করেন। গবেষকদের মতে, সময়ের আগে উপস্থিত হওয়াকে অনেক ব্যবস্থাপক দায়িত্বশীলতার লক্ষণ হিসেবে দেখেন। ফলে কর্মদক্ষতা একই থাকলেও আগেভাগে আসা কর্মীরা ইতিবাচক মূল্যায়নের কারণে পদোন্নতির ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে এগিয়ে থাকতে পারেন।
সৃজনশীলতার ক্ষেত্রেও মানুষের জৈবিক ছন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের মানুষ সকালে এবং রাতজাগা মানুষ সন্ধ্যা বা রাতে তুলনামূলক বেশি সৃজনশীল হতে পারেন। অর্থাৎ সৃজনশীলতা নির্ভর করে ব্যক্তি কখন সবচেয়ে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেন, তার ওপর। তাই কেবল ভোরে ওঠা বা রাতে দেরি করে ঘুমানোর অভ্যাস কাউকে বেশি সৃজনশীল করে না।
কর্মঘণ্টার সময়সূচিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান ৯টা–৫টার প্রচলিত কর্মঘণ্টা অনুসরণ করে। ফলে সকালের বৈঠক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা অফিসে দৃশ্যমান উপস্থিতির ক্ষেত্রে ভোরে ওঠা কর্মীরা বাড়তি সুযোগ পান। এ কারণে তাদের কাজ সহজে নজরে আসে, যদিও রাতজাগা সহকর্মীরাও সমান মানের কাজ করতে পারেন।
বিশ্বজুড়ে ধীরে ধীরে নমনীয় কর্মঘণ্টা ও দূর থেকে কাজের সুযোগ বাড়ছে। গবেষকদের মতে, কর্মীরা যদি নিজেদের স্বাভাবিক কাজের সময় বেছে নেওয়ার সুযোগ পান, তাহলে ভোরে ওঠা ও রাতজাগা—উভয় ধরনের কর্মীরাই সমান দক্ষতা দেখাতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নমনীয়তা পদোন্নতির সমতা আনতে পারে।
গবেষকদের উপসংহার, কঠোর কর্মঘণ্টা ও প্রচলিত ব্যবস্থাপনা থাকা প্রতিষ্ঠানে ভোরে ওঠা কর্মীরা কিছুটা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। তবে সামগ্রিকভাবে পদোন্নতি নির্ভর করে ধারাবাহিক কর্মদক্ষতা, নেতৃত্বের গুণ, যোগাযোগদক্ষতা ও অর্জনের ওপর। তাই নিজের স্বাভাবিক জৈবিক ছন্দ অনুযায়ী দক্ষতার সঙ্গে কাজ করাই দীর্ঘ মেয়াদে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

