সুইডেনের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ফাগেরস্তা শহরে অবস্থিত ব্রিনেল স্কুলে শুক্রবার বিকেলে সংঘটিত ভয়াবহ তরবারি হামলায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় অবশেষে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। নিহত কিশোরীর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। একই ঘটনায় ১২ ও ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোর গুরুতরভাবে আহত হন, পাশাপাশি আরও একজন সামান্য জখমের শিকার হন বলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গ্রীষ্মকালীন দীর্ঘ ছুটির পর শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরেছিলেন সবে; ঠিক সেই সময়ে শুক্রবারের বিকেলবেলায় এই মর্মান্তিক ও প্রাণঘাতী হামলা ঘটে। ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ উপস্থিত হয়ে গুলি চালায়, কিন্তু সন্দেহভাজন হামলাকারী আটক হওয়ার পূর্বে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন কিনা—এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যদিও তার নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা এই ঘটনাকে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলা হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সুইডেনের পাবলিক ব্রডকাস্টার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি হেলমেট পরিধান করে ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ওই স্কুলের সাবেক ছাত্র ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতিমধ্যে সন্দেহভাজনের সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি পৃথক বাসস্থানে তল্লাশি অভিযান সম্পন্ন করেছে।
প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়টি রাজধানী স্টকহোম থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থিত। শুক্রবার হামলার পর ওই অঞ্চলজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল, যা পরবর্তী দিন শনিবারের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার সকালের দিকে প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন স্কুল পরিদর্শনে যান; সেখানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফুলের শ্রদ্ধাঞ্জলি স্থাপন করা হয়েছে, যা স্থানীয় মানুষের শোক ও সংহতির প্রকাশ বহন করে।
প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টারসন শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বার্তায় ঘটনাটিকে একটি ‘গুরুতর ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘এই কাজের পেছনে কী কারণ লুকিয়ে আছে, আমরা এখনো জানি না, কিন্তু পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছে।’ অন্যদিকে সুইডেনের রাজা কার্ল ষোড়শ গুস্তাফ এই খবর পেয়ে ‘মর্মাহত ও গভীর দুঃখ’ প্রকাশ করেছেন বলে রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।




