কোম্পানি পরিচালনার কৌশল শিখতে চাইলে শীর্ষ নির্বাহীর পাশে বসে কাজ করার বিকল্প নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্পোরেট অঙ্গনে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চিফ অব স্টাফ পদ। উচ্চাভিলাষী কর্মীদের জন্য এটি এক অনন্য সুযোগ — নির্বাহীদের কাছাকাছি থাকা, আকর্ষণীয় বেতন এবং ভবিষ্যতে শীর্ষ পদে পৌঁছানোর সম্ভাবনা একসঙ্গে মেলে এখানে।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, রেভেলিও ল্যাবসের জরিপে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ ধরনের পদের বিজ্ঞাপন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে, লাইভ ডেটা টেকনোলজিস জানাচ্ছে, ২০২১ সালের পর উত্তর আমেরিকায় চিফ অব স্টাফ পদে কর্মরত মানুষের সংখ্যা তিন গুণের বেশি বেড়েছে। এই পদের আকর্ষণ শুধু পদমর্যাদায় সীমাবদ্ধ নয়, বেতনও অনেক আকর্ষণীয়। জ্যেষ্ঠ চিফ অব স্টাফদের বার্ষিক বেতন ২ লাখ ডলারের বেশি, আর প্রযুক্তি ও অর্থ খাতে কিছু পদে তা ৪ লাখ ডলার বা তারও বেশি হতে পারে, সাথে থাকে ইক্যুইটি সুবিধাও।

তবে এই পদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সম্ভবত কাজের প্রকৃতিই। চিফ অব স্টাফ প্রতিদিন সিইও বা অন্য জ্যেষ্ঠ নির্বাহীর সঙ্গে কাজ করেন। তাদের দায়িত্বের মধ্যে থাকে কোন সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে তা ঠিক করা, কৌশলকে বাস্তবে রূপ দেওয়া এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় করা। তারা বোর্ড মিটিংয়ের উপকরণ প্রস্তুত করা, গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নেওয়া, কোম্পানির অগ্রাধিকার ট্র্যাক করা, আটকে যাওয়া প্রকল্পে গতি আনা — সবকিছুতেই সরাসরি জড়িত থাকেন। এছাড়াও তারা যে নির্বাহীকে সহায়তা করেন, তার জন্য একজন বিশ্বস্ত পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এমন একটি সুযোগ তৈরি করে যা প্রচলিত ক্যারিয়ার পথে সহজে মেলে না — পুরো কোম্পানির কার্যপ্রক্রিয়ার ওপর এক সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যায়।

বিশ্বব্যাপী ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা বাড়ার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় নির্বাহীদের এখন এমন দক্ষ কর্মী প্রয়োজন যারা বিভিন্ন বিষয় একসঙ্গে সামলাতে পারে। চিফ অব স্টাফরা নির্বাহীদের প্রতিযোগিতামূলক অগ্রাধিকার সামলাতে এবং তাদের সিদ্ধান্তগুলো পুরো কোম্পানিতে কার্যকর করতে সাহায্য করেন। এই ভূমিকা পালনকারীর নিজের ক্যারিয়ারও দ্রুত এগিয়ে যায়। ম্যাককিনসের একটি গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ২৫০ জন চিফ অব স্টাফের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই পদে কারও কার্যকালের মধ্যমেয়াদ মাত্র ২.৩ বছর। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়েছেন — গড়ে একাধিক স্তর উপরে উঠেছেন। মাত্র ১০ শতাংশ সরাসরি আরেকটি চিফ অব স্টাফ পদে গেছেন।

ম্যাককিনসের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৭৫ শতাংশ চিফ অব স্টাফ সিইওর সঙ্গে কাজ করেন, বাকিরা অন্য জ্যেষ্ঠ নির্বাহী, আঞ্চলিক প্রধান বা বোর্ড চেয়ারম্যানকে সহায়তা করেন। ফলে এই পদটি কার্যত নির্বাহী নেতৃত্বের এক ধরনের শিক্ষানবিশি। যারা ভবিষ্যতে ভাইস প্রেসিডেন্ট, চিফ অপারেটিং অফিসার, চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার বা সিইও হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তাদের জন্য শীর্ষ ব্যক্তির পাশে কয়েক বছর কাজ করা সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ দেখিয়ে দিতে পারে।