২০১৮ সালের মে মাসে মুম্বাইয়ের একটি আদালত বলিউডের দুই জুনিয়র শিল্পীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। তাঁদের অপরাধ ছিল তরুণ অভিনেত্রী মীনাক্ষী থাপাকে হত্যা করা। ঘটনাটি ২০১২ সালের মার্চে ঘটে, যা বলিউডের ইতিহাসে একটি নৃশংস অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন থেকে অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাইয়ে পা রেখেছিলেন মীনাক্ষী। তিনি '৪০৪' নামের একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারে অভিনয় করেছিলেন। পরে 'হিরোইন' চলচ্চিত্রের সেটে কাজ করার সুযোগ পান। মাধুর ভান্ডারকার পরিচালিত এই ছবির সেটেই তাঁর পরিচয় হয় অমিত জয়সওয়াল ও প্রীতি সুরিনের সঙ্গে। অভিযুক্তরা ধারণা করেছিল মীনাক্ষীর পরিবার অর্থশালী। এই ভুল ধারণা থেকেই অপহরণের পরিকল্পনা।
২০১২ সালের ১৩ মার্চ মীনাক্ষীকে উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে একটি সিনেমার প্রস্তাবের কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চার দিন পর ১৭ মার্চ অজ্ঞাত নম্বর থেকে মীনাক্ষীর পরিবারের কাছে ১৫ লাখ রুপি মুক্তিপণ দাবি করে বার্তা আসে। টাকা না দিলে তাঁকে পর্নোগ্রাফি কাজে বাধ্য করার হুমকি দেওয়া হয়। পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। তাঁরা মীনাক্ষীর ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৬০ হাজার রুপি জমা দেন, কিন্তু সেই অর্থ তাঁকে বাঁচাতে পারেনি।
মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে অভিযুক্তরা মীনাক্ষীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। খবর অনুযায়ী, দেহ খণ্ডিত করার পর প্রীতির পরিবারের বাড়ির কাছের একটি সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়। মাথা একটি বাসে করে লখনৌ যাওয়ার পথে ফেলে দেওয়া হয়, যা আর উদ্ধার হয়নি। পুলিশ ফোন রেকর্ড ও ইলেকট্রনিক তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের গতিবিধি অনুসরণ করে। তাঁরা মীনাক্ষীর সিম কার্ড ও ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে টাকা তোলার চেষ্টা করায় ধরা পড়ে যান।
২০১২ সালের ১৪ এপ্রিল মুম্বাইয়ের বান্দ্রা স্টেশনের কাছে একটি এটিএমের কাছে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে অমিত জয়সওয়াল ও প্রীতি সুরিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে মীনাক্ষীর সিম কার্ড ও ডেবিট কার্ড উদ্ধার হয়। ১৬ এপ্রিল সেপটিক ট্যাংক থেকে মীনাক্ষীর মাথাবিহীন দেহ বের করে আনা হয়। ঘটনার পর দীর্ঘ ছয় বছর বিচারপ্রক্রিয়া চলে। ২০১৮ সালের ৯ মে আদালত উভয়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বিশেষ সরকারি আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম এ ঘটনাকে 'বিরলতম অপরাধ' বলে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করলেও আদালত তা গ্রহণ করেনি।
মীনাক্ষী থাপা বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করতে চেয়েছিলেন। একটি ভালো চরিত্রের প্রতিশ্রুতিই শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যে প্রস্তাবের পেছনে কোনো সিনেমা ছিল না, বরং ছিল একটি ভয়ংকর প্রতারণা ও অপরাধের পরিকল্পনা। এই মামলা বলিউডের নতুন প্রতিভাদের নিরাপত্তা ও কাজ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।



