খুলনা নগরের নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনার (১৬) মরদেহ বস্তাবন্দী অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তার বাবা গ্রেপ্তার হয়েছেন। শনিবার বেলা পৌনে তিনটায় ডুমুরিয়া বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে আলিম হোসেন ওরফে আকাশকে (৪০) আটক করে র্যাব ও পুলিশের যৌথ দল। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সদর থানায় নেওয়া হয়। পুলিশের খুলনা জোনের সহকারী কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তাকে ধরতে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযান চালানো হচ্ছিল। তিনি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় আটক করতে দেরি হয়। শুক্রবার রাতেও অভিযানের প্রস্তুতি থাকলেও সে স্থান পরিবর্তন করে; তবে শনিবার আগের জায়গায় ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। আলিমকে আগামী রোববার আদালতে হাজির করা হবে।

ঘটনার সূত্রপাত আরফানার নিজের সিদ্ধান্তে বিয়ে করার মাধ্যমে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে বেহেড্ডা থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু সে পুনরায় স্বামীর কাছে যেতে চাইলে এ নিয়ে পরিবারে বিরোধ দেখা দেয়। ৮ জুলাই সন্ধ্যায় এ বিষয়ে কথা-কাটাকাটির সময় মা আরিফা ইয়াসমিন তাকে মারধর করেন। এরপর বাবা কাঠের ফালি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আরফানার। পুলিশ জানায়, স্বামী-স্ত্রী দুজনই মাদকাসক্ত।

হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মরদেহটি কবুতরের খাবারের প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে করে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে দেন বাবা। পরে পথচারীরা বস্তাটি দেখে পুলিশকে খবর দেয়। ওই দিন রাতেই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিচয় শনাক্ত করতে না পেরে সদর থানার উপপরিদর্শক লাভলী আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের এক পর্যায়ে আরফানার মা মরদেহ শনাক্ত করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়।

নিহত আরফানা খুলনার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা এবং সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে তার মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিল বলে জানা গেছে। গত ১১ জুলাই কেএমপি সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান হত্যাকাণ্ডের নানা দিক তুলে ধরেন এবং পলাতক বাবাকে ধরতে অভিযান জোরদার করার কথা জানান। সবশেষে শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হলো।