বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ অভিযানে রোমেলু লুকাকু এক ভিন্ন পরিচয়ে আবির্ভূত হয়েছেন। ৩৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের শরীরী ভাষা বলছে ভিন্ন কথা, কিন্তু পারফরম্যান্স দিচ্ছে ভিন্ন ইঙ্গিত। চলতি আসরে তিনি এখন পর্যন্ত খেলা পাঁচটি ম্যাচের চারটিতেই বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছেন। শুধুমাত্র ইরানের বিপক্ষে ম্যাচটি তিনি শুরু করেছিলেন। বাকি ম্যাচগুলোতে কোচ রুডি গার্সিয়া তাকে বেঞ্চে রেখে পরে মাঠে নামান। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, বদলি নেমেই লুকাকু গত তিন ম্যাচে গোল করেছেন এবং একটি গোলে সহায়তাও করেছেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি এক অনন্য রেকর্ড। কোনো আসরে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিনটি ভিন্ন ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব এই প্রথম লুকাকুর দখলে। মিসরের সঙ্গে ম্যাচে ৬৬তম মিনিটে নামার পর মুহূর্তের মধ্যেই একটি আত্মঘাতী গোল আদায় করে দলকে সমতায় আনেন তিনি। নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ৮৫তম মিনিটে পা রাখার পরের মিনিটেই বল জালে জড়ান। শেষ ৩২-এর রাউন্ডে সেনেগালের বিপক্ষেও তার গোলেই ম্যাচে ফেরে বেলজিয়াম।
গত মে মাসে বিশ্বকাপ দল ঘোষণার সময় কোচ গার্সিয়া একটি কৌতূহলোদ্দীপক মন্তব্য করেছিলেন, “লুকাকু আগের মতো নেই, শুরু থেকে খেলতে পারবে কি না জানি না, তবে সে আমাদের সেরা স্ট্রাইকার।” ফিটনেস হারানো কাউকে একইসঙ্গে সেরা অস্ত্র বলাটা বিভ্রান্তিকর মনে হলেও, বিশ্বকাপের মঞ্চে এসে তার যৌক্তিকতা স্পষ্ট হচ্ছে। বক্সের ভেতরে লুকাকুর শারীরিক উপস্থিতি ও প্রভাব এতটাই প্রকট যে প্রতিপক্ষ কোচরা আগে থেকে প্রস্তুত থেকেও তার গোলরোধে ব্যর্থ হচ্ছেন।
৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতা ও ৯৩ কেজি ওজনের এই তারকা হয়তো সোনালি প্রজন্মের চূড়ান্ত সময়কাল পেছনে ফেলেছেন, কিন্তু গোল করার যে সহজাত প্রবৃত্তি, তা অটুট রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, বদলি নেমে গোল করা লুকাকুর জন্য নতুন কিছু নয়। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৯১তম মিনিটে নামা এই ফরোয়ার্ড অতিরিক্ত সময়ে গোল করে দলকে পরবর্তী ধাপে তুলেছিলেন। অপ্টা-র তথ্য অনুযায়ী, ওই ম্যাচসহ বিশ্বকাপের ইতিহাসে চারটি স্বতন্ত্র ম্যাচে বদলি নেমে গোল করার প্রথম খেলোয়াড়ও তিনিই।
এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে লুকাকুর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার। আর মাত্র একটি গোল করলেই তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলাকে, যার নামের পাশে রয়েছে বদলি নেমে সর্বোচ্চ পাঁচ গোলের রেকর্ড।
লুকাকুর এই বদলি-নির্ভরতার পেছনে মূল কারণ চোট। নাপোলিতে গত মৌসুমে তিনি মাত্র সাতটি ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। খেলার অভাবে শরীরী গঠনে কিছুটা ভারীভাব এলেও, গার্সিয়ার পক্ষে বেলজিয়ামের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দলের বাইরে রাখা সম্ভব হয়নি। কেভিন ডি ব্রুইনা, থিবো কোর্তোয়া, ইউরি টিলেমান্স ও অ্যাক্সেল উইটসেলের মতো সোনালি প্রজন্মের বাকি চার টিকে থাকা সদস্যের মাঝেও লুকাকুই এখন সবচেয়ে আলোকিত মুখ। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ভালোভাবেই জানেন যে, নির্দিষ্ট কোনো মুহূর্তে লুকাকু মাঠে নামবেন। রাতের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের সেই উজ্জ্বল আলোয় স্পেনের রক্ষণভাগ দগ্ধ হতেই পারে।




