নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুরুষ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর কৃতিত্ব অর্জন করেছে দেশটি। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড, যিনি শুধু মাঠেই নয়, ব্যবসা ও বিনিয়োগের জগতেও নিজের অবস্থান শক্ত করে তুলছেন। ফোর্বসের তথ্যমতে, মাঠের পারফরম্যান্স থেকে বছরে প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার আয় করা এই ফুটবলার বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের একজন।

লুক্সেমবার্গভিত্তিক বিনিয়োগ কোম্পানি ‘পিলেজ’-এর মাধ্যমে হালান্ড ফাইন্যান্স, প্রযুক্তি ও আবাসন খাতে বিনিয়োগ করে আসছেন। ২০২৬ সালের মার্চে তিনি নরওয়ে চেস প্রতিযোগিতায় অ্যাঞ্জেল বিনিয়োগ করেন। প্রায় একই সময়ে নরওয়ের ব্যবসায়ী মর্টেন বোর্গের সঙ্গে যৌথভাবে ‘চেস মেটস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন হালান্ড, যা প্রতিযোগিতামূলক দাবা ইভেন্ট আয়োজনে নিবেদিত। তাদের নতুন টুর্নামেন্ট ফরম্যাট ‘টোটাল চেস ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর ন্যূনতম পুরস্কারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ লাখ ডলার।

এ প্রসঙ্গে হালান্ড বলেন, ‘দাবা মনকে তীক্ষ্ণ করে এবং ফুটবলের সঙ্গে এর বেশ স্পষ্ট মিল রয়েছে। দ্রুত চিন্তা করতে হয়, নিজের সহজাত প্রবৃত্তির ওপর আস্থা রাখতে হয় এবং বেশ কয়েক কদম এগিয়ে ভাবতে হয়।’ বিনিয়োগের তালিকায় আরও রয়েছে চুলের ব্যান্ড ‘কেক্কেকি’-এর প্রস্তুতকারক নরওয়েজিয়ান কোম্পানি ‘বন দেপ’-এর ক্ষুদ্র অংশীদারিত্ব। লম্বা সোনালি চুলে এই ব্যান্ড পরে মাঠে নামেন হালান্ড, যা তার নামাঙ্কিত কালেকশনের বিক্রি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়াও পুনর্বাসন প্রযুক্তি কোম্পানি ‘হাইপারিস’ এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ান লাগেজ ব্র্যান্ড ‘ডিবি’-তেও ইকুইটি রয়েছে তার।

ব্যবসার পাশাপাশি বিলাসবহুল জীবনযাপনেও পিছিয়ে নেই এই ২৫ বছর বয়সী তারকা। দ্য সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পেনের মারবেইলায় ৭০ লাখ ডলারের ম্যানশন, অসলোতে ৩৫ লাখ ডলারের অ্যাপার্টমেন্ট এবং ইংল্যান্ডের চেশায়ারে ৮২ লাখ ১০ হাজার ডলারের ১০ শোবারঘরের বাড়ি রয়েছে তার। জেন জেড প্রজন্মের এই ফুটবলারের হার্মেস বারকিন ব্যাগের সংগ্রহ প্রায়ই ভাইরাল হয়, যার প্রতিটির দাম কয়েক হাজার ডলার থেকে শুরু। রোলস-রয়েস, ফেরারি, মার্সিডিজ-বেঞ্জ ও অডির মতো দামি গাড়ির সংগ্রহও রয়েছে তার।

হলিউডেও পা রেখেছেন হালান্ড। নরওয়েজিয়ান পরিচালক হ্যারাল্ড জোয়ার্টের অ্যাডভেঞ্চার-কমেডি চলচ্চিত্র ‘ভিকুইন্স’-এ নিজের অ্যানিমেটেড সংস্করণ ‘হালান্ড’ নামের এক ভাইকিং যোদ্ধার কণ্ঠ দেবেন তিনি। এটি হবে তার প্রথম ফিচার ফিল্মে অভিষেক।

মাঠে ‘দ্য টার্মিনেটর’ খ্যাত হালান্ড তার বিস্ফোরক গতি, ৬ ফুট ৪ ইঞ্চির চওড়া গড়ন এবং প্রতিপক্ষের জালে নির্মম ফিনিশিংয়ের জন্য সুপরিচিত। সাবেক প্রিমিয়ার লিগ মিডফিল্ডার আলফ-ইঙ্গে হালান্ডের পুত্র তিনি, পারিবারিক উত্তরাধিকার বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। রেড বুল সালজবার্গে ২০১৯ সালে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু, ২০২০ সালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে যোগদান এবং ২০২২ সালে ম্যানচেস্টার সিটিতে পাড়ি জমানোর পর থেকে তিনি একাধিক প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা, ক্লাবের প্রথম উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়, প্রিমিয়ার লিগের একক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ও ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু অর্জন করেছেন। ক্লাব ও দেশের হয়ে ইতিমধ্যে ৩০০-এর বেশি গোল করেছেন হালান্ড। এবার বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের সুযোগ তার সামনে, যে টুর্নামেন্টে নরওয়ে কখনো সেমিফাইনালেও উঠতে পারেনি।