কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুককে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে কাফনের কাপড় ও চিরকুট পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২০ জুলাই) বিকেলে এসএ পরিবহনের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মধ্যপাড়ায় অবস্থিত তার বাসায় একটি পার্সেল পৌঁছায়। মোড়ক খুলে দেখা যায়, ভেতরে রয়েছে কাফনের কাপড়, গোলাপজল, আগরবাতি ও একটি চিরকুট। ওই চিরকুটে লেখা, ‘আপনি আগামী এক মাসের মধ্যে ভৈরব ছেড়ে দিন। অন্যথায় আপনার পরিণতি ভয়াবহ হবে।’

পার্সেলের প্রেরক হিসেবে ‘হরিদাস’ নাম ও ‘আশুগঞ্জ’ ঠিকানা উল্লেখ থাকলেও তদন্তে জানা গেছে, এটি ভৈরব শাখা থেকেই বুকিং দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ফারুক। তিনি সোমবার ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আবেদন জানান।

প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে ভৈরব পৌরসভায় নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফারুক। তার আদি নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার খন্দকার পাড়ায়। বর্তমানে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়ায় বসবাস করেন এবং সেখান থেকে প্রতিদিন ভৈরবে এসে কাজ করেন।

নিজের বিরুদ্ধে আনা অনিয়মের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ফারুক বলেন, ‘ভৈরব একটি গতিশীল পৌরসভা, যেখানে নানা ধরনের কাজের সঙ্গে অনেকের বিপুল স্বার্থ জড়িত। আমি কখনো নিয়মের বাইরে গিয়ে কারও স্বার্থসিদ্ধি করে দিইনি। এ কারণে অফিসের ভেতরে ও বাইরের কিছু প্রভাবশালী পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমার ধারণা, আমাকে ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়ার জন্যই এই হুমকি দেওয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে, পৌরসভার কিছু কর্মচারীর অভিযোগ, ফারুক নিজের এখতিয়ারের বাইরে গিয়েও বিভিন্ন বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করেন। তাদের দাবি, প্রতিটি দপ্তরের কাজে তিনি অতিরিক্ত নাক গলান, বিশেষ করে যেসব বিভাগ তাঁর সরাসরি তদারকির আওতায় নয়, সেখানেও তিনি অনধিকার প্রবেশ করেন। এ আচরণ কর্মীদের অনেকেই পছন্দ করেন না বলে জানা গেছে।

ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে পার্সেল বুকিংয়ে ব্যবহৃত একটি মুঠোফোন নম্বর শনাক্ত করা হয়েছে। প্রযুক্তির সাহায্যে নম্বরটির অবস্থান ও ব্যবহারকারী শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনার অভ্যন্তরীণ কোনো বিরোধের সম্পর্ক রয়েছে কিনা, সে দিকটিও খতিয়ে দেখছি। একাধিক দৃষ্টিকোণ থেকে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’