বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে একটি রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হনুফা বেগম (৫০) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। গত ৩ আগস্ট ভোরে সংঘটিত ওই ঘটনার নয় দিন পর, বুধবার বিকেল চারটার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন এই মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
গত ৩ আগস্ট সকাল ৬টার দিকে বাড়ির উঠানে ভাগ্নে ফাহিমকে (১৫) ব্যায়াম করানোর সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। হনুফা বেগমের মেয়ে ইতি আক্তার (১৮) জানান, তিনি উঠানে দড়ির সঙ্গে বাঁধা তিনটি লাল রঙের চিপসের প্যাকেট এবং একটি কাপড়ের শপিং ব্যাগ দেখতে পান। কৌতূহলবশত সেগুলো পরীক্ষা করতে গিয়ে কর্দমাক্ত উঠানে পা পিছলে পড়ে যান ইতি। মুহূর্তেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে ইতি, তাঁর মা হনুফা বেগম এবং ভাগ্নে ফাহিম দগ্ধ হন। আগুনের তীব্রতা থেকে বাঁচতে তাঁরা পাশের তুলাতলা নদীতে ঝাঁপ দেন। বর্তমানে ফাহিমের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে, তবে ইতির অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
ঢাকা থেকে আসা পুলিশ বোম্ব ডিসপোজাল টিমের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত সরঞ্জামটি ছিল একটি ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)। এছাড়া বিস্ফোরকটিকে সক্রিয় করার জন্য বিশেষ কৌশল 'বুবি ট্র্যাপ' বা বিস্ফোরণ ফাঁদ ব্যবহার করা হয়েছিল।
নিহত হনুফা বেগমের ছোট ছেলে জামাল হোসেন হাওলাদার তাঁর মায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, বাবার মৃত্যুর পর মায়ের আশ্রয়ই ছিল তাদের একমাত্র ভরসা, যা এখন চিরতরে হারিয়ে গেল। নিহত নারীর বড় ছেলে কামাল হোসেন তাঁদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় উপস্থিত ছিলেন।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানিয়েছেন, প্রশাসন শুরু থেকেই দগ্ধ তিনজনের উন্নত চিকিৎসার বিষয়টি তদারকি করে আসছে এবং যাবতীয় চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকার বহন করবে। এছাড়া মরদেহ বরিশালে ফিরিয়ে আনার খরচও প্রশাসন প্রদান করবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ আগস্ট জামাল হোসেন বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চললেও এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।




