২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় রসায়ন ১ম পত্রের পুরো সিলেবাসের ওপর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। কলেজ অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ, ঢাকার সহযোগী অধ্যাপক তাপসী বণিকের দেওয়া পরামর্শে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচটি অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও প্রস্তুতির কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। পরীক্ষার প্যাটার্ন অনুযায়ী, সৃজনশীল অংশে মোট ৮টি প্রশ্ন থাকবে, যার মধ্যে ৫টির উত্তর দিতে হবে। অন্যদিকে বহুনির্বাচনি বিভাগে ২৫ নম্বরের জন্য ২৫টি প্রশ্ন থাকবে।
পঞ্চম অধ্যায় (কর্মমুখী রসায়ন) সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি মূলত জীবনসংশ্লিষ্ট রাসায়নিক দ্রব্য তৈরি ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত। শিক্ষার্থীদের ভিনেগার, খাদ্যনিরাপত্তা, পিকলিং, কিউরিং, কিলোটিং এজেন্ট, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সম্পর্কে জানতে হবে। এ ছাড়া হেড-স্পেস, ফুড লেকার, কেস হার্ডিনিং, মেহেদি, আফটার শেভ, লিপস্টিক, গ্লাস ক্লিনার ও টয়লেট ক্লিনারের বিভিন্ন উপাদানের ভূমিকা বোঝা জরুরি। পাস্তুরাইজেশন, কলয়েড, সাসপেনশন, কোয়াগুলেশন, টিনডাল প্রভাব ও ব্রাউনীয় গতির ধারণাও রাখতে হবে। দুধের সংযুক্তি ও শক্তি সম্পর্কেও জানা প্রয়োজন।
চতুর্থ অধ্যায়টি আকারে অনেক বড়, তবে এতে গাণিতিক অংশের প্রাধান্য বেশি। সবুজ রসায়ন, রাসায়নিক সাম্যাবস্থা ও এর শ্রেণিবিন্যাস, ভরক্রিয়া সূত্র, সক্রিয়ণ শক্তি, বিক্রিয়া তাপ, হেসের সূত্র, ল্যাভয়শিয়ে ও ল্যাপলাসের সূত্র, প্রশমন তাপ, দ্রবণ তাপ ও দহন তাপ সম্পর্কে জানা জরুরি। বাফার দ্রবণ ও এর বৈশিষ্ট্য, pH ও pOH, Kp ও Kc-এর একক ও সম্পর্ক, ভ্যান্টহফের সূত্র—এগুলোও ভালোভাবে অনুশীলন করতে হবে।
দ্বিতীয় অধ্যায়ের কলেবর বড় হলেও কয়েকটি অংশ আয়ত্তে রাখলে উত্তর দেওয়া সহজ হবে। সৃজনশীল প্রশ্নের ‘ক’ ও ‘খ’ অংশের জন্য কম্পোজিট কণা, আলফা কণিকা, আইসোবার, আইসোটোপ, আইসোটোন, আইসো ইলেকট্রনিক কনফিগারেশন, অরবিটাল, নোড, নোডাল তল, কোয়ান্টাম সংখ্যা ও জিম্যান প্রভাব সম্পর্কে জেনে রাখা দরকার। নিউক্লিয়াস আবিষ্কার ও জিংক সালফাইড পর্দা ব্যবহারের কারণও গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া দ্রাব্যতা, দ্রাব্যতা গুণফল, আয়নিক গুণফল ও এগুলোর সম্পর্ক, ফে²⁺, ফে³⁺, ন্যা⁺ ও ক্যা²⁺ আয়ন শনাক্তকরণ বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। ক্রোমাটোগ্রাফি, শিখা পরীক্ষা, ঊর্ধ্বপাতন, পাতন, আংশিক পাতন ও সমস্ফুটনের বিষয়েও জানা জরুরি। ‘গ’ ও ‘ঘ’ প্রশ্নের জন্য অরবিটালে ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা, ইলেকট্রনের বেগ, কৌণিক ভরবেগ ও ব্যাসার্ধ নির্ণয় এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো অনুশীলন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় অধ্যায়ে এস, পি, ডি ও এফ ব্লকের মৌলগুলোর সংখ্যা ও বৈশিষ্ট্য ভালোভাবে পড়তে হবে। অবস্থান্তর মৌল প্রমাণ করা, চৌম্বক ধর্ম ও পোলার যৌগ সনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ। পানি, অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড, সালফেট, পটাশিয়াম বোরোহাইড্রাইড ইত্যাদি যৌগে বন্ধন চিহ্নিত করা, পোলারেন ও বন্ধনের সংজ্ঞা জানা দরকার। অক্সাইডের প্রকৃতি, যৌগের আকার ও বন্ধন কোণ, রঙিন হওয়ার কারণ, গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্কের ভিন্নতার কারণ বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
প্রথম অধ্যায়ে রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষণ, ব্যবহার নীতি ও সতর্কতা, বিভিন্ন ঘনমাত্রার দ্রবণ তৈরি, পরিবেশে প্রভাব ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। রাসায়নিক দ্রব্য ওজনে মাপন যন্ত্র ও প্রয়োগবিধি, গ্লাভসের ধরন ও প্রয়োগ, কাচের সামগ্রী পরিষ্কারের ক্লিনিং মিক্সার সম্পর্কে পড়তে হবে। রাইডার ধ্রুবক, ল্যাব কীট ও এমএসডিএস (MSDS) সম্পর্কে জানা জরুরি। দ্রবণের মিশ্রণের প্রকৃতি সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে।
সবশেষে, বিশেষজ্ঞের মতে প্রশ্নব্যাংক থেকে বেশি অনুশীলন এবং গাণিতিক অংশে দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দিতে হবে।




