১৯৯৮ সালে ঢাকার ফার্মগেটের পূর্ব রাজাবাজারে এক নবদম্পতির রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তেজগাঁও থানা থেকে উদ্ধার হওয়া একটি হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে প্রথম আলো। ঘটনার প্রায় দুই দশক পর লেখাটি পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো, যা ঘটনার জট খুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ২০ আগস্ট ঢাকার ফার্মগেট এলাকার পূর্ব রাজাবাজারের একটি বাসা থেকে পুলিশ দরজা ভেঙে প্রবেশ করলে ভেতরে কাউকে পাওয়া যায়নি। ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন নেয়ামুল কবির নামের এক গার্মেন্টস কর্মী ও তার স্ত্রী। বাড়িওয়ালা ভাড়া নিতে এসে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখতে পায়, বাসার দরজা ভেতর থেকে লোহার ছিটকিনি দিয়ে বন্ধ ছিল। বাসার তিনটি জানালা অক্ষত থাকলেও ভেতরে কোনো মানুষের অস্তিত্ব নেই। নবদম্পতি কীভাবে বের হয়ে গেলেন, তা আজও রহস্যজনক। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে এ ঘটনা এক কলামের খবর হয়ে থাকলেও তদন্তে নামেনি কেউ।

ঘটনার পর থেকে নেয়ামুল কবিরের খোঁজে দিনাজপুরে যায়নি পুলিশ। তবে প্রথম আলোর ক্রাইম রিপোর্টার সুপন রায় নিজ উদ্যোগে দিনাজপুরে গিয়ে খোঁজ নিলেও কিছু পাননি। বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া পাণ্ডুলিপিটি যে নেয়ামুল কবিরের লেখা, সে বিষয়ে নিশ্চিত পুলিশ ও সুপন রায়। সাহিত্যরসিক সুপন রায় পাণ্ডুলিপিটি পড়ে তাৎক্ষণিকভাবে এর বিষয়বস্তুকে 'ইউনিক' বলে মন্তব্য করেন। পরবর্তীকালে প্রথম আলোর সাময়িকী সম্পাদকের অনুমোদন নিয়ে লেখাটি ভাষা সংশোধন না করেই হুবহু প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়।

প্রকাশিত পাণ্ডুলিপিতে লেখক নিজেকে ২৮ বছর বয়সী বলে উল্লেখ করেছেন এবং স্ত্রীর বয়স সম্পর্কে অনিশ্চিত থাকার কথা বলেছেন। তিনি লিখেছেন, স্ত্রী রুনু সব সময় মৃত্যুর কথা বলতেন এবং অসুস্থ হলে খুশি হয়ে যেতেন, কারণ তিনি ভাবতেন এবার মারা যাওয়ার সুযোগ এসেছে। লেখায় তিনি স্ত্রীর অসুস্থতা, জ্বর, ওষুধ খেতে অস্বীকৃতি এবং অবশেষে রাতের বেলা নিঃশব্দে মৃত্যুর ঘটনা বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি নিজের জ্বর আসা এবং ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করেছেন। লেখার শেষ অংশে তিনি দেখতে পান, মৃত স্ত্রী রুনু তার পাশে নেই, যদিও দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। এই অস্বাভাবিক ঘটনার পর তার নিজের শরীর বিন্দুতে পরিণত হওয়ার অনুভূতির কথাও তিনি লিখেছেন।

পাণ্ডুলিপির ভাষা সাহিত্যের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ নয়, তবে এর বিষয়বস্তু অসাধারণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রকাশকরা। লেখাটিতে ব্যবহৃত ছড়া, স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও বিস্ময়, এবং জীবনের অর্থহীনতার অনুভূতি পাঠকদের কাছে ঘটনার গভীর রহস্য উপস্থাপন করে।