চট্টগ্রামের বহির্নোঙর এলাকায় রোববার দিবাগত গভীর রাতে কোস্টগার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। সমুদ্রে টহল দেওয়ার সময় একটি সন্দেহজনক নৌযানকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। কিন্তু সংকেত না মেনে নৌযানটি পালানোর চেষ্টা করলে কোস্টগার্ড সদস্যরা ধাওয়া শুরু করেন। একপর্যায়ে নৌযানটিকে আটকে তল্লাশি চালিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। কোস্টগার্ডের হিসাব অনুযায়ী, জব্দ করা এসব ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

ঘটনার সময় নৌযানটিতে থাকা মুহাম্মদ রহিম (৬০) ও মো. রশিদ (৫৫) নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা উভয়েই উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। নৌযানটিও জব্দ করা হয়েছে। আজ দুপুরে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুননের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

‘অপারেশন সমুদ্র প্রহরা’র আওতায় কোস্টগার্ড জাহাজ কুতুবদিয়া এবং আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা বহির্নোঙর এলাকায় নিয়মিত টহল ও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহজনক ওই নৌযানটির গতিবিধি নজরে রাখা হয়েছিল। থামার নির্দেশ অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করায় ধাওয়া করে আটক করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে কোস্টগার্ড জানিয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পাচারের চেষ্টা করছিল। এই চক্রের ওপর দীর্ঘদিন ধরেই গোয়েন্দা নজরদারি চলছিল। চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ কাজে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে। জব্দ করা ইয়াবা, নৌযান এবং আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষ।