ভবিষ্যতে দেশে অর্থপাচারের মতো ঘটনা পুনরাবৃত্তি হবে কি না, তা মূলত যারা এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন তাদের ওপর নির্ভর করছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বিশ্বাস করেন, যদি লুটপাটের কারিগরদের সহযোগীরা তাদের সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে দেয়, তবে কেউ নতুন করে এমন দুর্বৃত্তিমূলক কর্মকাণ্ড করার আগে একাধিকবার চিন্তা করবে।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ এবং বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সম্মেলন চলাকালীন আইএমএফ-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে একটি বৈঠকের পর এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ব্রিফিংয়ে যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয় যে ভবিষ্যতে অর্থ লুট বন্ধ হবে কি না, তখন তিনি সহায়তাকারীদের ভূমিকার বিষয়টি সামনে আনেন। তিতুমীর স্পষ্ট করে জানান, দেশে বা বিদেশে যারা এই লুটপাটে সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন, তাদের সকলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন।
সাবেক সরকারের আমলের আর্থিক অনিয়মের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, পতনের আগের সরকারের কারণে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে বর্তমানে ৪০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল খেয়ানতের বোঝা বইতে হচ্ছে। তিনি একে একটি বড় ধরনের 'ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম' হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন যে, কেবল ব্যাংক খাত থেকেই এই পরিমাণ অর্থ লুট করা হয়েছে, অন্যান্য খাতের হিসাব ধরলে তা আরও বাড়বে। এই খেলাপি ঋণ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে, আইএমএফ-এর নতুন ঋণ কর্মসূচির পরিমাণ এবং শর্তাবলী সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই বিষয়গুলো মূলত দরকষাকষির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। ঋণের অর্থ পাওয়ার সময়সীমা নিয়ে তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে এই প্রক্রিয়া চলে এবং সরকার দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তাই দ্রুতই অর্থ প্রাপ্তির আশা করা যায়।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে আইএমএফ-এর পূর্বাভাসের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শেষে মূল্যস্ফীতি ১০.৯ শতাংশ এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.২ শতাংশ হতে পারে বলে আইএমএফ মনে করে। তবে এই পূর্বাভাসকে তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি বলে উল্লেখ করে তিতুমীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ ৬.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হবে।




