বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি লিওনেল মেসি অবশেষে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা করেছেন। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা আর্জেন্টিনার হয়ে সম্ভাব্য সব অর্জন সম্পন্ন করার পর এই সিদ্ধান্ত নিলেন। যদিও অনেকের কাছেই এই ঘোষণাটি আকস্মিক মনে হয়েছে, তবে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম 'লা নাসিওন'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই চলছিল।

মেসির অবসরবার্তার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি গত ২১ জুলাই—বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র দুই দিন পর—এই বার্তাটি লিখেছিলেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি আসে ৮ আগস্ট তাঁর বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর। ব্যক্তিগত শোক এবং শারীরিক সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি তাঁকে এই সিদ্ধান্তে আরও দৃঢ় করে তোলে। মেসি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, শরীর এখন আর আগের মতো সায় দিচ্ছে না এবং জাতীয় দলের জন্য তাঁর দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই।

লিওনেল মেসির এই প্রস্থানের পেছনে আরও কিছু কৌশলগত কারণ রয়েছে। বর্তমান আর্জেন্টিনা দল এখন পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ সামনে রেখে দলটিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যেখানে নিকো পাজ এবং থিয়াগো আলমাদারের মতো প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজয় এবং সেখানে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়াটাও হয়তো তাঁকে এই সংকেত দিয়েছে যে, তাঁর সময় শেষ হয়ে এসেছে।

সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, বিশ্বকাপ ফাইনালটিই হতে পারে মেসির শেষ ম্যাচ। মেসিও তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে, নতুন বিশ্বকাপ চক্র শুরু হওয়ার আগে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার এটাই সঠিক সময়। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হওয়ার আগেই তিনি এই ঘোষণা দিলেন, যাতে দলের নতুন পরিকল্পনা সহজ হয়।

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) বুয়েনস আইরেসে মেসি এবং বিশ্বকাপ রানার্সআপ দলের সম্মানে একটি জমকালো বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে। ফলে ভক্তরা হয়তো তাঁকে শেষবারের মতো আরও একবার মাঠে দেখার সুযোগ পাবেন। দীর্ঘ ২১ বছর আর্জেন্টিনার জার্সিতে লড়াই করা এই মহাতারকা এখন ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। তাঁর এই বিদায় কেবল আর্জেন্টিনাতেই নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনসহ সারা বিশ্বে গভীর প্রভাব ফেলেছে।