ফুটবল বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং ফ্রান্সের কিংবদন্তি মিশেল প্লাতিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর অপসারণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। সম্প্রতি ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলো আয়োজনের জন্য একটি কোম্পানি গঠন করে তার ২০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি খাতের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ইনফান্তিনো। এই পরিকল্পনার পর থেকেই তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন, আর এখন সেই সমালোচকদের তালিকায় যোগ দিয়েছেন প্লাতিনি। জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যখন উয়েফার সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন, তখন প্লাতিনি প্লাতিনির অধীনে কাজ করতেন। তবে বর্তমানে ইনফান্তিনো এক দশক ধরে ফিফার শীর্ষ পদে আসীন।
৭১ বছর বয়সী প্লাতিনির মতে, ইনফান্তিনো টাকার প্রতি এবং ক্ষমতার প্রতি অত্যন্ত আসক্ত, যা তিনি আগে থেকেই জানতেন। প্লাতিনী মনে করেন, একজন নিয়মের রক্ষক হয়ে ইনফান্তিনো নিজেই নিয়ম অমান্য করেছেন, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক বিষয় আলাদা হতে পারে, কিন্তু ইনফান্তিনো সামগ্রিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। বিশেষ করে বিশ্বকাপের ফাইনালের বিরতি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘ হওয়া এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াকে তিনি সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এই ধরণের কর্মকাণ্ড ফুটবল প্রশাসনের জন্য ক্ষতিকর এবং এর ফলে ইনফান্তিনোর বিদায় হওয়া জরুরি।
ইনফান্তিনোর পতন ঘটাতে শুধু ফুটবল সংস্থার চাপ যথেষ্ট হবে না বলে মনে করেন প্লাতিনি। তাঁর অভিমত, উয়েফা যদি সত্যিই তাঁকে নামাতে চায়, তবে আইনি লড়াই বা আদালতের আশ্রয় নিতে হবে। বর্তমানে উয়েফার পাশাপাশি এশিয়া এবং কনকাকাফের ফুটবল কর্মকর্তারাও ইনফান্তিনোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। প্লাতিনির দাবি, ইনফান্তিনো তাঁকে সরাসরি সভাপতি পদের লড়াই থেকে সরিয়ে দেননি, বরং প্লাতিনির পতনের সুযোগ নিয়ে নিজের জয় নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে দুর্নীতির অভিযোগে ফুটবল প্রশাসন থেকে সরে যেতে হয়েছিল প্লাতিনিকে। তবে ২০২৫ সালে সব অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পুনরায় সক্রিয় হয়েছেন। সম্প্রতি কানাল প্লাস-এর একটি তথ্যচিত্রে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলার সময় তিনি বর্তমান ফুটবল প্রশাসনের এই করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি, ২০১৫ সালে তাঁর ফিফা সভাপতি হওয়ার পথে যে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, তার ক্ষতিপূরণ চেয়ে ফ্রান্সে মামলা করেছেন প্লাতিনি। এই মামলায় ইনফান্তিনোর পাশাপাশি মার্কো ভিলিগার ও দোমেনিকো স্কালাকেও আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে সারা বিশ্বে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন তদন্ত চলছে, যা নিয়ে প্লাতিনি কৌতূহলী হয়ে আছেন।


