নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড এবং তাদের কথিত 'অপতৎপরতা' নিয়ে কোনো ধরনের উদ্বেগ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, বাংলাদেশের মানুষ এই দলটিকে রাজনৈতিকভাবে কখনোই গ্রহণ করবে না।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা এবং গুলশানে লকডাউন কর্মসূচির বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, লকডাউনের মতো শব্দ শোনা গেলেও বাস্তবে এর কোনো দৃশ্যমান প্রভাব নেই। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ব্যাপক গণহত্যা ও ম্যাসাকার চালানো হয়েছে, যা জাতিসংঘের রিপোর্টে প্রমাণিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, জাতিসংঘের হিসেবে ১৪০০ মানুষ প্রাণ হারালেও সরকারি হিসেবে এই সংখ্যা ২০০০ ছাড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ফ্যাসিস্ট শক্তি এখনও জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি কিংবা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেনি, বরং বিদেশে বসে উচ্চবাচ্য করছে। তাই তারা ডিসেম্বরে ফিরুক বা ফেব্রুয়ারিতে, তাতে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই এবং তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পূর্ণ অপাংক্তেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী মাফিয়া শক্তিগুলো একটি বিশেষ আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে ২০ সেপ্টেম্বর 'লকডাউন' কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। সেই উদ্দেশ্যেই রাতের অন্ধকারে কিছু ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। তবে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মোটরসাইকেলসহ সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে যাত্রাবাড়ী এবং হাইকোর্টের ফটকের সামনে হামলাকারীরাও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া চালক ও হেলপারবিহীন পরিত্যক্ত বাসগুলোকে লক্ষ্য করে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বাকি জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর 'লং মার্চ' কর্মসূচি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোর দাবি জানানো বা সমালোচনা করা একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এবং সরকার তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সব ধরনের সহযোগিতা করেছে। চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলে লং মার্চগুলো অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। আগামী পাঁচ বছর পর বিধি ও নিয়ম মেনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হবে এবং তখন জনমত যার পক্ষে থাকবে, সেটিই চূড়ান্ত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।




