হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ কায়দায় ১২ কেজি সোনা পাচারের চেষ্টার অভিযোগে দুই চীনা নাগরিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চেন লিইউন এবং মো শিয়াওইউ। পুলিশ তাঁদের সাত দিনের রিমান্ড শেষে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করলে তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মো. মাজেদুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার সূত্র ধরে জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে দুবাই থেকে এমিরেটসের ইকে–৫৮৬ ফ্লাইটে ঢাকা পৌঁছান এই দুই চীনা নাগরিক। বিমানবন্দরে নামার পর কোনো মালামাল ঘোষণা না করেই তাঁরা গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সন্দেহ হওয়ায় কাস্টমস কর্মকর্তারা তাঁদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তল্লাশির সময় দেখা যায়, তাঁদের পরা জিনস প্যান্ট এবং অন্তর্বাসের ভেতরে কালো কাপড় দিয়ে সেলাই করে বিশেষ কৌশলে নরম হলুদ রঙের পেস্টজাতীয় কিছু বস্তু লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। কাপড় কেটে ওই বস্তুগুলো উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিকভাবে স্বর্ণকারদের মাধ্যমে পরীক্ষা করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয় যে, উদ্ধার করা বস্তুগুলো ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণ। মামলার এজাহার অনুযায়ী, দুই আসামির প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ৬ কেজি করে মোট ১২ কেজি স্বর্ণের পেস্ট পাওয়া গেছে। তবে রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে স্বর্ণের বিশুদ্ধতা এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। বাজারমূল্যে এই স্বর্ণের দাম প্রায় ২৪ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই পাচার চেষ্টার ঘটনায় কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (প্রিভেন্টিভ) জামিল সারোয়ার আহাদ বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, ব্যবহৃত প্যান্ট, অন্তর্বাস এবং স্কচটেপসহ বেশ কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। পুলিশি রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আটক রাখার অনুরোধ জানিয়েছিল তদন্তকারী কর্মকর্তা, যা আদালত মঞ্জুর করেছেন।